নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের লাশ উদ্ধার 

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ থাকা রিফাত (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ অবশেষে  উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। এতে এলাকাবাসীর  যা ধারণাই সত্যি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নরসিংদীর করিমপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যায় মরদেহটি শনাক্ত করেছে  তার বোন। এখন মরদেহের পোস্ট মর্টেম করার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’

নিহত ব্যক্তির বোন মুক্তা বেগম (৩৫) অভিযোগ করেন, তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, মরদেহে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত দেখা গেছে। দাফন শেষে এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাতের স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এর আগে, গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে নবীনগর উপজেলার বাড়াইল দাসপাড়ায় সশস্ত্র হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় কনিকা দাস (৪০) নামের এক নারী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই রিফাত নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মৃত্যু ও মরদেহ গুমের বিষয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম বলেন, রিফাতের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। নিহতের পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু মরদেহটি নরসিংদীতে উদ্ধার হয়েছে, সেখানেও মামলা করার সুযোগ রয়েছে। ইদানীং এলাকায় আলোচনার চলে এসেছে সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থতি নিয়ে।  সুশীল সমাজের লোকজন নিন্দা প্রস্তাব জানিয়ে অনতিবিলম্বে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সংশ্লিষ্টের দাবি জানান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত