নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্লাস চলাকালে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ৩০ জন শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে মিফতাউল জান্নাত তাকওয়া নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়।
এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
খবর পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দুটি শ্রেণিকক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো একতলা ভবনের দুটি কক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান করা হয়। ঘটনার সময় দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলছিল। ওই কক্ষে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। তাদের পাঠদান করাচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার।
তিনি বলেন, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা কান্নাকাটি শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা দ্রুত ছুটে এসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
ঘটনার পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষটির ছাদের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভবনের কয়েকটি পিলারেও ক্ষয় ও ভাঙনের চিহ্ন দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাদিরা আক্তার বানু বলেন, তিনি ২০২৪ সালের ৫ মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে কয়েকশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। পুরোনো একতলা ভবনটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভবনটিতে ক্লাস পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়। মঙ্গলবার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনার পর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বলেন, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে পরামর্শ করে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়েছে। ভবনটির বিষয়ে খুব শিগগিরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।