ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল

‘ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল’ যা ‘ডেভিলস সি’ নামে পরিচিত জাপানের টোকিও উপকূল থেকে দক্ষিণ-পূর্বে মিয়াকোজিমা দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেকের মতে, এটি বার্মুডা ট্রায়াঙ্গেলের মতোই এক রহস্যময় স্থান, যেখানে জাহাজ, সাবমেরিন এবং বিমানের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।  

কুবো মারু ৫ (১৯৫২) : জাপানি সরকারের গবেষণা জাহাজ কুবো মারু ৫, ১৯৫২ সালে ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেলে রহস্যজনকভাবে নিখেঁজ হয়ে যায়। ৩১ জন ক্রুসহ পুরো জাহাজ উধাও হওয়ার পর ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ পাওয়া গেলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

মঙ্গোলিয়ান কিংবদন্তি : চীনা ও জাপানি পুরাণে বলা হয়, এই অঞ্চলে বিশাল ড্রাগন বা রহস্যময় সামুদ্রিক দানবের বসবাস ছিল, যারা নাবিকদের জাহাজ টেনে নাকি নিয়ে যেত! এই কারণেই এর নাম হয়েছে ‘ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিখোঁজ জাহাজ ও সাবমেরিন : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, জাপানি ও মার্কিন নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি জাহাজ ও সাবমেরিন এখানে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা আজও এক অমীমাংসিত রহস্য।

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা : ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে অনেক সাবমেরিন আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগুœ্যৎপাতের কারণে পানির নিচে বিশাল ঢেউ বা সুনামি সৃষ্টি হতে পারে, যা জাহাজকে নিমেষে তলিয়ে দিতে পারে।

মেঘের মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অশান্তি : বিজ্ঞানীদের মতে, ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেলে প্রাকৃতিক চৌম্বকীয় ব্যাঘাত ঘটে, যা কম্পাস ও  নেভিগেশন সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

অতিপ্রাকৃত ও এলিয়েন তত্ত্ব : কিছু রহস্যপ্রেমী বিশ্বাস করেন, এখানে অন্য গ্রহের প্রাণী বা ভিনগ্রহীদের সক্রিয়তা থাকতে পারে, যারা প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালাচ্ছে! এই তত্ত্বগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও, রহস্যপ্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেলের সত্যতা : বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গবেষণা করে মনে করেন, এ অঞ্চলের দুর্ঘটনার কারণ হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্রতলের পরিবর্তন ও চৌম্বকীয় বিভ্রান্তি। তবে রহস্য এখনো রয়ে গেছে, যা একে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।