হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলের বিকল্প হিসেবে সিরিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সিরিয়ার নতুন নেতা এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, কারন তিনি হিজবুল্লাহকে মোটেও পছন্দ করেন না।
এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অতিমাত্রায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, তাই হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’র নিজেরই সামলানো উচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এই পরামর্শ দেন।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আল-শারা’র প্রশংসা করে বলেন যে তিনি একটি অসাধারণ কাজ করছেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ইসরায়েল যদি সবাইকে হত্যা না করে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করতে না পারে, তবে সিরিয়াই এই কাজটি করবে এবং আল-শারা নিজেই তা করে দেখাবেন।
সাবেক বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসা সাবেক এই বিদ্রোহী যোদ্ধাকে বেশ শক্ত প্রকৃতির নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, আল-শারা কোনো বয় স্কাউট (অনভিজ্ঞ বা নিরীহ ব্যক্তি) নন এবং হিজবুল্লাহর সাথে ডিল করার ক্ষেত্রে তিনি বেশ পটু।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সমঝোতা ও আলোচনার প্রেক্ষিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য তেহরানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর সাধারণ সম্পাদক নাঈম কাসেম তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফের কাছে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
নাঈম কাসেম উল্লেখ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক শর্ত হিসেবেই ইসরায়েল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। হিজবুল্লাহ প্রধান তার চিঠিতে ইরানের দীর্ঘদিনের সমর্থনের প্রশংসা করে বলেন, ইরান সব সময় হিজবুল্লাহ, প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং লেবাননের জনগণকে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে নিজেরা কিছুই নেয়নি। ইরান লেবাননকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে এবং নিজেদের ভূমি মুক্ত করার পাশাপাশি সমাজের ক্ষত নিরাময় ও পুনর্গঠনে শক্তি জুগিয়েছে।
বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি বোমা হামলার জবাবে ইরান যেভাবে সরাসরি জায়নবাদী সত্তার ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সেই সাহসিকতার কথাও তিনি চিঠিতে স্মরণ করেন। ব্যাপক ত্যাগ ও যুদ্ধের হুমকি মাথায় নিয়ে লেবাননের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইরানকে গর্ব ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন নাঈম কাসেম।