উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহ নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১৪ জুন) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় দুটি আকাশযান বা প্রজেক্টাইল শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তবর্তী কয়েকটি শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, ড্রোনগুলোর একটি সীমান্তবর্তী শহর শ্লোমির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই হামলা তথাকথিত ‘দাহিয়া নীতি’ পরীক্ষার একটি প্রচেষ্টা।
স্মোট্রিচ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ওই নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়ায় অবস্থিত ভবনগুলো “আজই ধ্বংস করা উচিত”।
তিনি লিখেছেন, “আমরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা আগামী বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আমরা উত্তরাঞ্চলের জনগণকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ‘দাহিয়া নীতি’ হলো এমন একটি সামরিক কৌশল, যার আওতায় প্রতিপক্ষের শক্ত ঘাঁটি বা অবকাঠামোতে ব্যাপক ও কঠোর হামলার কথা বলা হয়। ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের পর থেকে এই নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে নতুন এই ড্রোন হামলার ঘটনা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।