শিশুর স্ক্রিনটাইম কতক্ষণ হবে

শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।  এসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন শ্যামল আতিক

পাঁচ বছরের আগে টিভি কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে যত দূরে রাখতে পারবেন, তা শিশুর জন্য কল্যাণকর। ছোট শিশুর হাতে স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইস তুলে দেবেন না। শিশুকে সহিংস বা যৌন উত্তেজনাপূর্ণ কার্টুন বা ভিডিও গেমস থেকে দূরে রাখুন। এর ফলে শিশু সহিংস হয়ে উঠতে পারে, তার মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিতে পারে। শিশু যেন স্ক্রিন আসক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। স্ক্রিন আসক্ত শিশু বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। মনোযোগ ক্ষমতা হ্রাস পায় বলে পড়াশোনায় পিছিয়ে যায়।

সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে বলে মানুষের চেহারায় ফুটে ওঠা অভিব্যক্তি বুঝতে পারে না। যার ফলে অন্য শিশুদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। প্রায়শ দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। বেশিক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পানি শুকিয়ে যেতে পারে। একে ড্রাই আই বলে। এর ফলে চোখে ক্লান্তি দেখা দেয়।  বেশিক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শিশুর মধ্যে মায়োপিয়া দেখা দেয়। এর ফলে শিশু দূরের জিনিস ঠিকমতো দেখতে পায় না। ক্রমাগত কাছের জিনিস দেখার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়।

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, কম্পিউটার, টিভিসহ যেকোনো স্ক্রিনের আলোতে শরীরের মেলাটোনিন নিঃসরণ বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ঘুমানোর কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে শিশুকে স্ক্রিন দেখানো থেকে দূরে রাখুন। শিশু যতক্ষণ ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে, আপনি তার পাশে থাকুন। তাকে নিয়ে শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিন। যে সাইটগুলো শিশুদের জন্য উপযুক্ত নয়, তা ব্লক করে দিন। শিশু কী দেখছে তা নজরদারির জন্য প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেমের বিভিন্ন টুলস, অ্যাপ, সফটওয়ার ব্যবহার করুন।

শিশুকে স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে চাইলে বাসায় তাকে গুণগত সময় দিন, তার সঙ্গে খেলাধুলা করুন, গল্প শোনান, তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যান অর্থাৎ শিশুর জন্য একটি আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করুন। অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব শিশুর সামনে স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানোর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া। ঘুমের কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেটের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া। সুযোগ পেলেই শিশুকে খোলা জায়গায় নিয়ে যান। নীল আকাশ দেখতে দিন, সবুজ ঘাসের ওপর দৌড়াতে দিন, বালি নিয়ে খেলতে দিন, হৈ-হুল্লোড় করতে দিন, দূরের জিনিস দেখতে দিন। এতে শিশুর ক্ষীণদৃষ্টি (মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস দেখার সমস্যা) হওয়ার সম্ভাবনা কমে।