চল্লিশের পর থেরাপিউটিক ইয়োগা

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

যোগচর্চা মানুষের শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক এবং আবেগিক এসব ক্ষমতার সুষম বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। যা ব্যস্ত জীবনে ডিজিটাল যুগের প্রচন্ড গতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত যোগাভ্যাস অসুস্থ শরীর ও মনে আশীর্বাদের মতো। সবার জানা থাকা জরুরি। তবে নারীদের শরীরের গঠন এবং জীবনের প্রতি পর্বে হরমনের তারতম্যের কারণে শরীরে ও মনে পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে চল্লিশ বছর পার হওয়া নারীর  দেহের হাড় ও পেশির ক্ষয় বাড়তে থাকে। ফলে স্নায়ুর চাপে কখনো কোমর ব্যথা, কখনো পায়ের ব্যথায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। এই সময়টাতে স্থূলতাও এসেও ভর করে। ফলে তাদের কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

তাই নারীদের এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সময়ে সুস্থ, সচল ও প্রাণবন্ত থাকার জন্য ইয়োগা বা যোগব্যায়াম অনন্য কার্যকরী মাধ্যম। নারীদের সাধারণ দুটি সমস্যা স্নায়ুর চাপ (SCIATICA) এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে ইয়োগা কীভাবে কাজ করে, দুজনের অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হলো।

কেস স্টাডি ১ : রাবেয়া সুলতানা (প্রকৃত নাম নয়) একজন ফ্রিল্যান্সার। বয়স ৪৫ বছর। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার কারণে মেরুদ-ের নিচে চাপ পড়ে ডান পায়ের  পেছনে তীব্র ব্যথা ও অবশ ভাব হয়। সারা দিন কাজের পর রাতে ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

একসময় তিনি একজন যোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে থেরাপিউটিক ইয়োগা শুরু করেন। প্রথম মাসে তীব্র ব্যথার কারণে কেবল মকরাসন (MAKARASANA) এবং স্নায়ুকে শান্ত করতে অনুলোম-বিলোম (নাড়িশুদ্ধি) ও ভ্রামরী প্রাণায়াম করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে ব্যথা কমে এলে মেরুদ-ের চাপ কমাতে মার্জারাসন (MARZARASANA), সুপ্ত বজ্রাসন (SUPA-VAJRASANA) ও শল্ভাসন (SALABHASANA) শুরু করেন।

চার মাস যেতেই রাবেয়ার সায়েটিক স্নায়ুর ওপর থেকে চাপ কমে আসে। তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা ও কাজ করতে পারেন।

কেস স্টাডি ২: শারমিন আক্তার (প্রকৃত নাম নয়), বয়স ৪৮। তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। ডেস্কে টানা বসে কাজ করা এবং পেরিমেনোপজের কারণে গত তিন বছরে ১০ কেজি ওজন বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে হাঁটুতে চাপ পড়ে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা অনুভব করছিলেন এবং তিনি অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠতেন।

এক সময় তিনিও প্রতিদিন অফিস শেষে এখানে এসে যোগ থেরাপি নিতে শুরু করেন। প্রথম দিকে জয়েন্টের ওপর চাপ না দিয়ে ক্যালোরি বার্ন করার জন্য তিনি প্রতিদিন ৩০ মিনিট ইয়োগা শুরু করেন। প্রথম দিকে চেয়ারের সাহায্য নিয়ে ধীরগতিতে সূর্য নমস্কার এবং মেটাবলিজম বাড়াতে উষ্ট্রাসন করেন। পরে পেটের মেদ কমাতে প্লাঙ্ক আসন (PLUNK POSE), ভুজঙ্গাসন, শলভাসন করেন।

এভাবে মাস ছয় ইয়োগা এবং সুষম খাদ্য তালিকা মেনে চলায় তিনি ৮ কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হন। এতে হরমোনের ভারসাম্য ফিরে আসায় কর্মক্ষমতা যেমন বেড়েছে তেমনি হাঁটুর ব্যথাও অনেকটাই কমেছে। ইয়োগা অনুশীলনে সতর্কতার অংশ হিসেবে চিকিৎসকের এবং বিশেষজ্ঞ যোগবিদের পরামর্শ মেনে চলা কর্তব্য।

যোগ প্রশিক্ষক, জয়সান ইয়োগা অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার, ধানমন্ডি শাখা

মডেল : এলিজা চৌধুরী

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত