সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের অন্যতম শর্ত হলো পর্যাপ্ত ঘুম। ঘুমের সময় শরীরের বিভিন্ন কোষ পুনর্গঠিত হয় এবং দিনের বেলা হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পূরণের কাজ করে। ত্বকের কোষও এই সময় নিজেকে পুনরুদ্ধার করে। ফলে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্জীবন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
ঘুমের ঘাটতির সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষণ হলো চোখের নিচে কালচে দাগ বা ডার্ক সার্কেল। এক-দুদিন কম ঘুমালেও মুখে ক্লান্ত ভাব দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাত জাগার অভ্যাস থাকলে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়, নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং বলিরেখা বা বয়সের ছাপ আগেভাগেই দেখা দিতে পারে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ব্রণ বাড়া কিংবা ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শুধু ত্বকই নয়, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে। মানসিক চাপ, খিটখিটে মেজাজ এবং মনোযোগের ঘাটতি বাড়তে থাকে। এসব কিছুর প্রভাবও পরোক্ষভাবে ত্বকের ওপর পড়ে। কারণ মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক ক্লান্তি ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়।
তাই ত্বক ভালো রাখতে ঘুমের বিকল্প নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুমের জন্য রাতের সময়টিই সবচেয়ে উপযোগী। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটারের পর্দা থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ এসব ডিভাইসের আলো মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং ঘুম আসতে দেরি করে।
রাত জেগে কাজ করলে ত্বকের যত্ন কেমন হবে
রাতে ক্লিনজিং খুব জরুরি। কাজ শেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করুন। ত্বকে জমে থাকা ধুলো, তেল আর মেকআপ পরিষ্কার না করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, ফুসকুড়ি হতে পারে। ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
রাত জেগে কাজ করলে শরীরের পানিশূন্যতা বেড়ে যায়। ফলে ত্বকও শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই মুখ ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। চাইলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা অ্যালোভেরাযুক্ত ক্রিম লাগাতে পারেন।
রাত জাগার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চোখে। তাই ডার্ক সার্কেল ঠেকাতে ঠান্ডা টি-ব্যাগ বা শসার টুকরো কয়েক মিনিট চোখে রেখে দিতে পারেন। আই ক্রিম ব্যবহার করলেও উপকার মিলবে।
ভিটামিন-সি সিরাম বা অন্য কোনো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিরাম ত্বকের ক্লান্তভাব কমাতে সাহায্য করে। এগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও কার্যকর।
রাত জেগে কাজ করলে দিনে পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। পাশাপাশি ফলমূল, সবজি, ডাবের পানি বা লেবু পানি খেলে শরীরের ভেতর থেকে হাইড্রেশন আসবে, যা ত্বককেও সতেজ রাখবে।
যদি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, দিনে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ নিন। ঘুমের অভাব পূরণ হলে ত্বকের ক্লান্তভাবও অনেকটা কেটে যাবে।
রাত জেগে পরের দিন বাইরে বেরোতে হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগান। এতে ত্বক অতিরিক্ত ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
চাইলে হালকা গরম পানিতে গোসল বা মাথার ত্বকে হালকা মালিশও করা যেতে পারে, যা শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে। সৌন্দর্যচর্চার নানা প্রসাধনী থাকলেও সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত ত্বকের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত ঘুম। তাই রাত জাগার অভ্যাস কমিয়ে ত্বককে দিন প্রয়োজনীয় বিশ্রাম। কারণ সুন্দর ত্বকের শুরু হয় একটি ভালো ঘুম থেকেই।