অধরা স্বপ্নের খোঁজে রোনালদো

টেক্সাসের হিউস্টনে আজ রাতে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই গ্রুপ ‘কে’-এর এই ম্যাচে সবার চোখ থাকবে রোনালদোর ওপরেই। পর্তুগিজদের এই মহাতারকা নিজের ষষ্ঠ এবং নিশ্চিতভাবেই শেষ বিশ্বকাপে মাঠে নামছেন। ২০১৬ ইউরো এবং নেশনস লিগ জিতলেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্য বিশ্বকাপের ট্রফিটি এখনো এক ‘অধরা স্বপ্ন’।

ফিটনেস নিয়ে বরাবরই বেশ সতর্কে থাকেন রোনালদো। বিশ্বমঞ্চে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই রোনালদো তাই তো আরও একবার আলোচনায় তার অবিশ্বাস্য শারীরিক ফিটনেস। সম্প্রতি ফ্লোরিডার পাম বিচে তার সতীর্থ ভিটিনহার সঙ্গে রোনালদোর খালি গায়ে কাটানো কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সতীর্থের এমন অতিমানবীয় ফিটনেস দেখে ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ভিটিনহা অবাক হয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, ওটা কোনো ফটোশপ নয়; তিনি আসলেই এমন। ৪১ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন তা অবিশ্বাস্য। আমার বয়স ২৬, কিন্তু আমার শরীরও এমন নয়। এটিই প্রমাণ করে নিজের ফিটনেস নিয়ে তিনি কতটা নিবেদিতপ্রাণ।’

এদিকে বিশ্বকাপের চাপ প্রসঙ্গে স্বয়ং রোনালদো বেশ আত্মবিশ্বাসী। নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শারীরিক ভাব? আমি একদম ঠিক আছি। আপনারা কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি? আসল লড়াই শুরু হবে ১৭ তারিখ যখন বল মাঠে গড়াবে। যখন আসল চাপ আসবে, তখনই চেনা যাবে আসল চ্যাম্পিয়নদের।’

পর্তুগাল দলে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াসের মতো বিশ্বমানের তারকা থাকলেও কোচ রবার্তো মার্তিনেসের পুরো কৌশল আবর্তিত হচ্ছে রোনালদোকে ঘিরেই। যদিও প্রীতি ম্যাচে একাধিক সহজ সুযোগ মিস করায় অনেকে মনে করছেন ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারই পর্তুগালের দুর্বলতম লিঙ্ক হতে পারেন। তবে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে সতীর্থরা যেভাবে ম্যাচ জিতিয়েছে, তাতে বোঝা যায় রোনালদোর শেষ সুযোগে তাল মেলাতে প্রস্তুত পুরো দল। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর জন্য এই ম্যাচটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৫২ বছর পর তারা ফিরছে বিশ্বকাপে। যদিও ডিআর কঙ্গো নেই এই প্রথম। এর আগে জায়ারে নামে তারা খেলেছিল ১৯৭৪ বিশ্বকাপে। ১৯৭৪ সালের সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রি-কিকের সময় ডিফেন্সিভ ওয়াল ভেঙে বল কিক করার সেই বিখ্যাত হাস্যকর ঘটনার জন্য কঙ্গোকে বছরের পর বছর ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। যুগোসøাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলে হারার পর দেশটির তৎকালীন স্বৈরশাসক খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সমস্ত বোনাস ও অর্থ আটকে দেয়। শুধু তাই নয়, ব্রাজিলের কাছে বড় ব্যবধানে হারলে তাদের আর দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না এমন প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। চরম মানসিক চাপ, অর্থ না পাওয়া এবং মৃত্যুর ভয়ে ভীত ডিফেন্ডার ইলুঙ্গা সেদিন মূলত রাগে ও ক্ষোভে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার জন্য ওই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে, যাতে এই জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি আর না হতে হয়।