প্রতিশোধ আর আধিপত্যের ম্যাচ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

ঝোড়ো হাওয়া আর টর্নেডোর চোখ রাঙানি সামলে অবশেষে টেক্সাসের আর্লিংটনে পা রেখেছে ইংল্যান্ড দল। তবে মাঠের বাইরের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও বড় এক মনস্তাত্ত্বিক ঝড় থ্রি-লায়ন্সদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে গত আট বছর ধরে, যার নাম ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লুকা মদ্রিচদের কাছে অতিরিক্ত সময়ের ১-২ গোলের সেই হার আজও ইংলিশ ফুটবলের বুকে এক দগদগে ক্ষত। দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে ব্রিটিশ সমর্থকদের গালভরা সেøাগান ‘ইট কামিং হোম’ শেষ পর্যন্ত কেবল ট্রফি খরার পরিহাসেই রূপ নিয়েছে।

ইংল্যান্ডের এই ‘কামিং হোম’ মিশনকে সফল করতে এবার ডাগআউটে আনা হয়েছে ট্যাকটিশিয়ান টমাস টুখেলকে। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে হ্যারি কেনদের প্রস্তুতি পর্বটা মোটেও মসৃণ ছিল না। অরল্যান্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলার সময় প্রবল ঝড়, ফ্লোরিডা থেকে কানসাস সিটিতে যাওয়ার পথে ট্রানজিটে পুরো দলের কিট (জার্সি ও সরঞ্জাম) চুরি যাওয়া, আর সবশেষে টর্নেডোর আশঙ্কায় হোটেলবন্দি থাকা; সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিবেশ পার করতে হয়েছে দলকে। তবে টুখেলের অধীনে বাছাইপর্বে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখানো ইংল্যান্ড শিবির এই ম্যাচে জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবছে না।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র বুকায়ো সাকার সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠা। গত মার্চ থেকে অ্যাকিলিস ইনজুরিতে ভোগা আর্সেনালের এই ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গারকে নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও সোমবার কানসাস সিটির ক্যাম্প থেকে সাকা সরাসরি বার্তা দিয়েছেন, ‘গত কয়েক মাসের চেয়ে এখন আমি অনেক ভালো বোধ করছি এবং মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি তৈরি।’

জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকা অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নিয়ে গড়া ইংলিশ আক্রমণভাগকে ধরা হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।

অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার লক্ষ্য এবার বিশ্বকাপের অধরা চূড়ায় পা রাখা। ২০১৮ সালে রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় হওয়া ক্রোয়াটরা এবার পডিয়ামের শীর্ষস্থানটি পেতে মরিয়া। যদিও ২০২৪ ইউরোর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং বেলজিয়ামের কাছে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে হারার কারণে জলাতকো দালিচের দলের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তবে লুকা মদ্রিচ, ইভান পেরিসিক এবং মাতেও কোভাচিচের মতো অভিজ্ঞদের পাশে যখন ম্যানচেস্টার সিটির জোসকো গাভার্দিওলের মতো ডিফেন্ডাররা থাকেন, তখন ক্রোয়েশিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল কেউ করবে না।

বিশ্বমঞ্চে ক্রোয়াশিয়ার বিপক্ষে স্মৃতি মধুর না হলেও হেড টু হেড পরিসংখ্যানে এগিয়ে থ্রি লায়ন্স’ই। এখন পর্যন্ত ১১ বারের দেখায় ইংল্যান্ড জিতেছে ৬টিতেই, ক্রোয়েশিয়া জিতেছে ৩টিতে এবং ড্র হয়েছে ২টি ম্যাচ। সবশেষ তাদের দেখাটা ছিল ইউরোর ২০২০ আসরে। সেবার গ্রুপপর্বের ম্যাচে ক্রোয়েটদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংলিশরা।

সব মিলিয়ে, হিউস্টনের মাঠে বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি কেবল তিনটি পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং এক দলের জন্য ৫৬ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর শুরু, আর অন্য দলের জন্য নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার যুদ্ধ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত