গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র

অস্ত্র সরবরাহে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ (ডিপিএ) সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জারি করা এক প্রেসিডেন্সিয়াল স্মারকে ট্রাম্প দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আইনটির ক্ষমতা ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ত্বরান্বিত করার অনুমোদন দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের পর সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প সেই চাহিদা পূরণে সক্ষম কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

স্মারকে বলা হয়েছে, দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থা ও উৎপাদনগত জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের প্রাপ্যতা বাড়ানোর সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণেই ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্টের আওতায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ ‘যৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ১৯৫০ সালের একটি আইনের ধারা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রয়োজন মেটাতে স্বেচ্ছাসেবী চুক্তি ও কর্মপরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় শিল্প ও সেবাখাতের সম্পদ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। কোরীয় যুদ্ধ চলাকালে ১৯৫০ সালে মার্কিন কংগ্রেস আইনটি পাস করে এবং পরবর্তীতে সময়ে সময়ে এর মেয়াদ বাড়ানো ও হালনাগাদ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই আইন নির্বাহী বিভাগকে শিল্প উৎপাদনের দিকনির্দেশনা দেওয়া, সরকারি চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বরাদ্দ এবং আর্থিক প্রণোদনা ও সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের ক্ষমতা দেয়।

এছাড়া আইনটি জাতীয় প্রতিরক্ষার ধারণাকে কেবল সামরিক চাহিদার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাকেও এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।