মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নতুন করে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিতে বেড়ে ৪ শতাংশের বেশি হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমি মুদ্রাস্ফীতি পছন্দ করি।'
নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের একটি পরিকল্পনায় তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমার কাছে এটি সার্থক ছিল।' তিনি ওই অভিযানের সফলতার দাবিও করেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে তেহরানের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সার ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করতে পারে। অথচ ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
এদিকে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে দলটির নেতারা উদ্বিগ্ন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা নিয়ে জনসমর্থন কমেছে। বিভিন্ন জরিপে তার অনুমোদন হার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে দেখা যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করার প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি। শিল্প খাতের নির্বাহী ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের দামে আরও বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে, যা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
এছড়া গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সময়ও মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক কষ্ট তার বিবেচনায় নেই। সে সময় তিনি বলেন, 'আমি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবি না। আমি কারও কথা ভাবি না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে ভাবি, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না।'