এক দলের অপেক্ষার অবসান ২৮ বছরের। অন্যদিকে আরেক দলের এবারই প্রথম। ফেরা ও শুরুর এই ম্যাচে শেষ হাসি হাসল অস্ট্রিয়া। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামা জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে দুই যুগেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপে ফেরাটা রাঙিয়ে রাখল অস্ট্রিয়া।
প্রথমার্ধে রোমানো শ্মিড গোলে লিডের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরান জর্ডান ফরোয়ার্ড আলি ওলওয়ান। সেখান থেকে ডিফেন্ডার ভুলে ম্যাচে পিছিয়ে যাওয়া এবং ম্যাচের যোগ করার সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টিতে অস্ট্রিয়া ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউতোভিচ কোনো ভুল না করায় বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো জর্ডানকে।
হার-জিত এড়িয়ে এশিয়ার এই দলটির জন্য দিনটি ছিল ঐতিহাসিকই। মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এই দেশটিই এবার অতীতের সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক রূপকথা লিখেছে। টানা ১০ বার ব্যর্থ হওয়ার পর একাদশতম চেষ্টায় জর্ডানের এই বিশ্বকাপ টিকিট পাওয়া। ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপে সবাইকে চমকে দিয়ে রানার্সআপ হওয়া দলটি গত কয়েক বছর ধরেই দারুণ ধারাবাহিক। ২০২৬ আসরে দলের সংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগে এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ওমানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বমঞ্চের টিকিট নিশ্চিত করেছিল 'দি চিভালরাস ওয়ানস' ডাকনামের দলটি।
এদিকে অস্ট্রিয়াও যেন হলো নতুন শুরু। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করা এই দলটির ফুটবল ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ হলেও, বিগত কয়েক দশকে তাদের বৈশ্বিক গ্রাফ কিছুটা ম্লান। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ ২৮টি বছর ধরে বিশ্বমঞ্চের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন সেই দীর্ঘ আক্ষেপ ও নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইউরোপের কঠিনতম উয়েফা অঞ্চলের বাধা টপকে নিজেদের অষ্টম আসরে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং মূল পর্বের শুরুটাও তাদের হলো দাপুটে জয় দিয়ে।
সান ফ্রান্সিসকোতে ম্যাচের শুরু থেকেই সমান তালে লড়ছিল দল দুটি। ম্যাচের ২০ মিনিটে শ্মিড এক দুর্দান্ত জোরালো শটে গোল করে অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। বিরতি থেকে ফেরার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেন জর্ডানের স্ট্রাইকার ওলওয়ান। সেখান থেকে তার নেওয়া এক বুলেট গতির শট দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে জর্ডান।
এরপর ম্যাচের ৬৯ মিনিটে অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড আরনাউতোভিচ গোলমুখের এক জটলা থেকে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতেন। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি; ভিএআর এর রিভিউতে দেখা যায় গোল হওয়ার আগে তাঁর সতীর্থ স্টিফান পশ-এর হাতে বল লেগেছিল। ফলে হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে ৭৬তম মিনিটে আবারও উদযাপনের সুযোগ পায় অস্ট্রিয়া। মার্সেল সাবিৎজারের নেওয়া একটি কর্নার কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব। এই আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমে জর্ডানের সালিম ওবেইদ নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করায় পেনাল্টি পায় অস্ট্রিয়া। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি আরনাউতোভিচ। তার নিখুঁত শটে ৩-১ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে অস্ট্রিয়া।