মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করার দাবি বায়রা'র

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগভিত্তিক উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)।

রবিবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর পাঠানো এক আবেদনে বায়রার ৬৫ জন সদস্যের পক্ষে এই দাবি জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিন্ডিকেটমুক্ত ও উন্মুক্ত শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার হওয়ায় এ বাজারের সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবস্থাপনা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কিন্তু অতীতে সীমিত সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে অধিকাংশ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে শ্রমবাজার সংকটের মুখে পড়েছে। এতে কর্মী, এজেন্সি ও রাষ্ট্র—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মী বিদেশে প্রেরণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে বায়রার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে, নেপালসহ অন্য ১৪টি শ্রম প্রেরণকারী দেশের মতো মালয়েশিয়াতেও সিন্ডিকেটমুক্তভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া, কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না করা, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।

আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার যে নীতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মালয়েশিয়া শ্রমবাজারেও তার প্রতিফলন ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।