সরকার ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দুর্নীতি সহায়ক ও শুভঙ্করের ফাঁকি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বুধবার (১৭ জুন) বিকালে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় স্থানীয় নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার উদ্ভোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসার সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন জোবায়ের হোসাইন রাজন,তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার ঘোষিত বাজেটে গরীব, অসহায় ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কোন দিকনির্দেশনা বা সুখবর নেই। অথচ যারা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পরিশোধ না করে অবৈধভাবে অগাধ অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন তাদের কালো টাকা সাদা করার জন্য অবারিত সুযোগ রাখা হয়েছে। যারা কালো টাকার মালিক তাদেরকে নামমাত্র কর দিয়ে জমি ও ফ্লাট কেনার সুযোগ দিয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রস্তবিত বাজেটকে ব্যাংক ঋণ নির্ভর। কিন্তু সরকারই যদি ব্যাংক খালি করে ফেলে তাহলে উদ্যোক্তারা কী করবেন; আত্মকর্মসংস্থানই বা কী করে সৃষ্টি হবে?
তিনি সরকারকে বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে জাতিকে গণমুখী বাজেট উপহার দেওয়ার আহবান জানান। অন্যথায় ঘোষিত বাজেট জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, জনগণ একটি গণমুখী বাজেট আশা করলেও সরকার এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। মূলত, ঘোষিত বাজেটের মাধ্যমে দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটকে অবারিত করা হয়েছে। আমরা সত্য কথা বললেই সরকার রেগে যায়। আমরা বিরোধী দল। সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরায় আমরা জাতীয় দায়িত্ব মনে করি। হাদিসে রাসূল (সা.)-এ এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা রয়েছে। আমরা প্রতিরোধ করতে না পারলে প্রতিবাদ করছি।
তিনি জমায়াতকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে বলেন, আমরা গণমানুষের কল্যাণেই সারা বছর কাজ করি। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সাধ্যমত সহায়তা দিই। মূলত আমরা দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।