বাউন্ডারি মারতে গিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

শুরুতে তানজিদ হাসান, এরপর সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন তালিকাটা বেশ লম্বা! সবাই গতকাল একই রোগে ভুগেছেন। বাউন্ডারি মারতে গিয়ে নিজেদের উইকেট যেমন বিলিয়ে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি দলকেও বিপদে ফেলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তাদের ব্যর্থতায় চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেটে হারে স্বাগতিকরা।

সাগরিকার উইকেট সাধারণত ব্যাটিং-সহায়ক হলেও গতকাল কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল। দিনের আলোয় খেলা হওয়ায় শুরু থেকে পেসাররা যেমন বাড়তি বাউন্স পান, তেমনি স্পিনারদের জন্য টার্ন ও গ্রিপও ছিল। শুরুতে উইকেটের ধরন বুঝতে পারলেও কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেননি স্বাগতিক ব্যাটাররা। অতিথি স্পিনারদের তোপে এক ওভার আগেই ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ দল। ছোট লক্ষ্যও অস্ট্রেলিয়া খুব সহজে তাড়া করতে পারেনি। কুপার কনোলির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পরও ১৯তম ওভারে গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। ৬ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপেও পড়েন মিচেল মার্শরা।

কোনোভাবে ১৬০ রানের ওপরে লক্ষ্য ছুড়ে দিতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলেই মনে করেন স্বাগতিক পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের, ‘ছেলেরা যেভাবে বল করেছে, আমাদের স্কোর বোর্ডে যদি আর ৩০ থেকে ৩৫ রান থাকত, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সহজ হতো না।’

বোলাররা স্বল্প পুঁজি নিয়ে লড়াই করলেও নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ব্যাটাররা। ৮ নম্বরে নামা শেখ মেহেদী হাসান খেলেন সর্বোচ্চ ২৯ রানের ইনিংস। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়েছিল বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তানজিদ-সাইফ বড় সংগ্রহের আভাস দেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ২৬ রানের এ জুটি ভাঙার পরও পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান করেস স্বাগতিকরা। রান তোলার গতি ধরে রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত বাউন্ডারি মারার প্রবণতাই ব্যাটারদের ডুবিয়েছে বলে মনে করেন তালহা, ‘আমরা একটু তাড়াহুড়ো করেছি। আমাদের পাওয়ার প্লে চমৎকার ছিল, কিন্তু ওখান থেকে সামনে নিতে পারিনি। অতিরিক্ত বাউন্ডারি মারতে গেছি। জুটি গড়তে হতো।’ অস্ট্রেলিয়ার তিন স্পিনার ৯ উইকেট নেন। যেখানে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা, অন্যরা পার্ট টাইমার। তাদের বলের ধরন বুঝতে না পেরে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। সৌম্য-তাওহীদরা অজিদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন তালহা, ‘আমরা ওদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছি। ওরা চাচ্ছিল আমরা বড় শট খেলতে গিয়ে ভুল করি, সেটাই হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত বাউন্ডারির ওপর নির্ভর করেছি।’

বিশ্বকাপে বড় হার মেয়েদের : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছেলেদের মতো মেয়েরাও হারের শিকার হয়েছে। লিডসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে মাত্র ৭৭ রান করে বাংলাদেশ। ৯ উইকেট ও ৬৩ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ের পর ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছেন রেকর্ড ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা।