গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া

দারুণ জয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে দুই দলই। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারায় প্যারাগুয়েকে, আর অস্ট্রেলিয়া হারায় তুরস্ককে। জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আজ রাতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ে প্যারাগুয়েকে কোনো সুযোগই দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র; ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়। ওই ম্যাচে আলো ছড়ান স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে বড় মঞ্চের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়কে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে দেখেছেন বিশ্লেষকরা।

ম্যাচের আগে ফুটবলবোদ্ধাদের বিশ্লেষণে তুরস্ক এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াই ছিল অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং কাউন্টার অ্যাটাকের কৌশল কাজে লাগিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট আদায় করে এশিয়ার প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি। ওই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত সকারুজরা।

তবে স্বাগতিকদের প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়েছেন। ইউরোপে খেলা তারকাদের সঙ্গে মেজর লিগ সকারের কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে সুযোগ দিয়েছেন তিনি। আক্রমণভাগে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগান, টিম ওয়েহ ও জিও রেইনার মতো ফুটবলারদের থাকায় এ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে থাকবে। দলটির ৩৮ বছর বয়সী রক্ষণভাগের খেলোয়াড় টিম রিম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন।

এদিকে বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচও ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছেন। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে নির্বাচিত ২৬ সদস্যের দলে ১৭ জনই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। অধিনায়ক ম্যাট রায়ান, অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ম্যাথিউ লেকি, আজিজ বেহিচ ও জ্যাকসন আরভিনের মতো খেলোয়াড়রা দলের আস্থার প্রতীক। বিশেষ করে জ্যাকসনের ওপর থাকবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব। অন্যদিকে তরুণ উইঙ্গার নেস্টরি ইরানকুন্ডার গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় ম্যাচটি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগ তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী হলেও অস্ট্রেলিয়ার জমাট রক্ষণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল প্রতিপক্ষকে রুখে দিতে পারে। তবে স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন বেশ এগিয়ে রাখবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ হবে আরেকবার বড় দলকে চমকে দেওয়ার।

বর্তমানে কোনো দলেরই চোট বা নিষেধাজ্ঞাজনিত সমস্যা নেই। যদিও পুলিসিচকে নিয়ে সামান্য শঙ্কা রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন তিনি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াও পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে।