দিয়াজ জাদুতে কলম্বিয়ার দাপট, হেরেও ‘গর্বিত’ উজবেকরা

২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল মাতিয়েছিলেন হামেস রদ্রিগেজ। ঠিক ১২ বছর পর, মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় এবার কলম্বিয়ার ফুটবলকে নেতৃত্ব দেওয়ার বাটনটি যেন ছিল লুইস দিয়াজের হাতে। বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গারের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ অভিষিক্ত উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নেস্তর লরেঞ্জোর দল। কাতার বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ার আক্ষেপ ভুলে এই জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করল দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা।

৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে আজতেকা স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছিল কলম্বিয়ার নিজেদের কোনো ঘরের মাঠে। গ্যালারিতে যখন হাজারো সমর্থকের কণ্ঠে ‘ভামোস কলম্বিয়া’ সেøাগান মুখরিত, মাঠের ভেতরে তখন আলো ছড়াচ্ছিলেন দিয়াজ। ম্যাচের প্রথমার্ধে দিয়াজের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পরই উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভের এক কড়া ট্যাকলে দিয়াজের সঙ্গে মাঠের পাশে থাকা এক ক্যামেরাম্যানও আঘাত পান, যার জন্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে কলম্বিয়ার আসল উদযাপন আসে ৪০ মিনিটে। দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া এক জাদুকরী পাস বক্সে খুঁজে নেয় ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল মুনোজকে। সেখান থেকে দুর্দান্ত এক টার্নিং শটে বল জালে জড়ান তিনি। ম্যাচ শেষে মুনোজ বলেন, ‘আমি দিয়াজকে আগেই বলেছিলাম ও বল পেলেই যেন আমার দিকে তাকায়। ও আমাকে অবিশ্বাস্য একটা পাস দিয়েছিল, আমার শুধু ফিনিশ করতে হয়েছে।’

বিরতির পর অবশ্য দুর্দান্ত লড়াইয়ে ফেরে ফ্যাবিও ক্যানাভারোর সুশৃঙ্খল উজবেকিস্তান। খেলার ৬০ মিনিটে দোস্তোনবেক খামদামোভের পাস থেকে এলডর শমুরুদভের নেওয়া শট কলম্বিয়ান কিপার কামিলো ভার্গাস ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে না পারলে ফিরতি বলে হেডে গোল করেন আববোসবেক ফায়জুল্লায়েভ। এটি বিশ্বমঞ্চে উজবেকিস্তানের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।

তবে নবাগতদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়েছিল কেবল ৫ মিনিট। ৬৫তম মিনিটে গুস্তাভো পুয়ের্তার পাস থেকে ডি-বক্সের বাম প্রান্ত দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে কলম্বিয়াকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ম্যাচের আসল নায়ক দিয়াজ। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দিয়াজ ম্যাচ শেষে আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি এই দিনটির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা এবং গোল ও অ্যাসিস্ট করা আমার শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো।’

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উজবেকিস্তানের বেখরুজ কারিমোভের একটি দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ইনজুরি টাইমে কলম্বিয়ার বদলি খেলোয়াড় জামিন্টন কাম্পাজ হেডে আরেকটি গোল করলে ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের যোগ করা সময়ে যখন দিয়াজকে তুলে নেওয়া হয়, তখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে হাততালির মাধ্যমে তাদের নতুন রাজপুত্রকে অভিবাদন জানায়।

পরাজয়ের পরও নিজের দলের লড়াকু মানসিকতায় গর্ব প্রকাশ করেছেন ২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি এবং বর্তমানে উজবেকিস্তানের প্রধান কোচ ফ্যাবিও ক্যানাভারো। ফুটবল ইতিহাসে বেকেনবাওয়ার, ব্লোখিন এবং ভ্যান বাস্তেনের পর চতুর্থ ব্যালনের ডি’অর জয়ী হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ভূমিকায় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ক্যানাভারো বলেন, ‘আমি ছেলেদের পারফরম্যান্সে অত্যন্ত গর্বিত। কলম্বিয়ার এত দর্শকের সামনে খেলা মোটেও সহজ ছিল না। ৩-১ ব্যবধানটি আমাদের পরিশ্রমের তুলনায় একটু বেশিই নিষ্ঠুর। তবে ছেলেরা বুঝেছে কখন বল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আর কখন ডিফেন্ড করতে হবে। এই অভিজ্ঞতা তারা সারা জীবন মনে রাখবে। কিন্তু এই স্তরের ফুটবলে ছোট ভুলেরও চড়া মূল্য দিতে হয়।’