এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে শুরুতেই উল্লাসে মেতেছিল চেক প্রজাতন্ত্র। কিন্তু সেই ধারা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি তারা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে চেক প্রজাতন্ত্রের নিশ্চিত জয় কেড়ে নিয়েছে ‘বাফানা বাফানা’রা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানের নাটকীয় ড্রয়ে শেষ হয়েছে।
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর দর্শকরা ঠিকঠাক আসনে বসার আগেই লিড নেয় চেক প্রজাতন্ত্র। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন চেকদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। অ্যালেক্সান্ডার সোজকার একটি চমৎকার রক্ষণচেরা পাস খুঁজে নেয় পেনাল্টি বক্সের ভেতর ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মিশেল সাদিলিককে। নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে চেক দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার, যা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল।
শুরুতেই ধাক্কা খাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমার্ধে নিজেদের গুছিয়ে নিতে বেশ কিছুটা সময় নেয়। ফলে প্রথমার্ধের বাকিটা সময় চেকদের রক্ষণভাগে তেমন কোনো ভীতি ছড়াতে পারেননি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখা যায়। কোচ হুগে ব্রুসের কিছু কৌশলগত বদল এবং নতুন খেলোয়াড় মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রাইকার এভিডেন্স মাকগোপার একটি বুলেট গতির হেড অসাধারণ দক্ষতায় নসাৎ করে দেন চেক গোলরক্ষক মাতেজ কোভার।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী নাটকীয় মোড় আসে ৮২তম মিনিটে। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের ডিবক্সের ভেতর হ্যান্ডবল করে বসেন চেকদের বদলি ডিফেন্ডার পাভেল সুলক। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ৮৩ মিনিটে স্পট-কিক নিতে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্ভরযোগ্য তারকা তেবোহো মোকোয়েনা। নিচু শটে চেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি (১-১)।
এক পয়েন্ট করে নিয়ে দুদলই শেষ রাউন্ড পর্যন্ত এ গ্রুপের চমক জিইয়ে রাখল।