২৩ মিনিটের গোল উৎসবে বসনিয়াকে ওড়ালো সুইজারল্যান্ড 

লস অ্যাঞ্জেলসের মাঠে তখন ম্যাচের ৭১ মিনিট পার হয়ে গেছে। বল দখলে প্রায় ৭০ শতাংশ এগিয়ে থেকেও গোলমুখের ব্যর্থতায় পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় ভুগছিল সুইজারল্যান্ড। ঠিক সেই মুহূর্তে ডাগআউট থেকে জাদুকরী এক সিদ্ধান্ত নিলেন সুইস মাস্টারমাইন্ড মুরাত ইয়াকিন। একসাথে তিন ফুটবলারকে মাঠে নামিয়ে ম্যাচের পুরো ভাগ্যটাই বদলে দিলেন তিনি। ফলাফল? ইনজুরি টাইমসহ ম্যাচের শেষ ২৩ মিনিটে মাঠজুড়ে চলল গোলবন্যা। এতে কাতার ম্যাচের ড্রয়ের হতাশা ভুলে ৪-১ গোলের এই বড় জয়ে বিশ্বমঞ্চে হুঙ্কার ছাড়ল ইউরোপের দলটি।

ম্যাচের ভাগ্য বদলের মূল নায়ক ছিলেন সুইজারল্যান্ড দলের কনিষ্ঠতম সদস্য ইয়োহান মানজাম্বি। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১৬৬ সেকেন্ডের মাথায় রুবেন ভারগাসের দুর্দান্ত এক পাস থেকে চোখধাঁধানো সাইড ভলিতে ডেডলক ভাঙেন ফ্রেইবুর্কের এই মিডফিল্ডার। এরপর ৯০ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনে মাতেন, ততক্ষণে বিশ্বকাপের এক অনন্য রেকর্ডে লেখা হয়ে গেছে তাঁর নাম। মাত্র ২০ বছর ২৪৭ দিন বয়সে বিশ্বমঞ্চে বদলি ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোল করার এই কীর্তি ইতিহাসে আর কোনো তরুণ দেখাতে পারেননি।

ইয়াকিনের সেই তিন বদলি খেলোয়াড়ের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় বসনিয়ার রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৮০ মিনিটে ব্রিল এমবোলোকে ডিবক্সের ঠিক বাইরে বিপজ্জনক ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ। ১০ জনের প্রতিপক্ষকে পেয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে সুইজারল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে এমবোলোর রক্ষণচেরা পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন রুবেন ভারগাস। এর ছয় মিনিট পর সেই ভারগাসের মাপা কাটব্যাক থেকেই নিজের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় গোলটি পান ম্যাচসেরা মানজাম্বি।

ম্যাচের শেষদিকের রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বসনিয়ার বদলি তারকা এরমিন মাহমিচ এক দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান কমিয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন।

তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৭ মিনিটে) জিব্রিল সো বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বসনিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সুইস কাপ্তান গ্রানিত জাকা। এই বিধ্বংসী জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কাটার দৌড়ে বেশ এগিয়ে গেল সুইজারল্যান্ড।