বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কো-হোস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্যারাগুয়ে ফুটবলারদের নিয়ে গণমাধ্যম ও ফুটবল মহলে চলছে তীব্র সমালোচনা। তবে নিজের খেলোয়াড়দের ওপর এমন কড়া সমালোচনা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্যারাগুয়ের হেড কোচ গুস্তাভো আলফারো। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় এক উত্তপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি মিডিয়াকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—সব সমালোচনা, সব আঘাত যেন তার দিকে করা হয়, কিন্তু খেলোয়াড়দের যেন রেহাই দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সেই বড় হারের পুরো দায় নিজের কাঁধে নিয়ে আলফারো শুক্রবার (১৯ জুন) তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলটিকে শান্তিতে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড়ে ঠাসা সংবাদ সম্মেলনে বারবার আঙুল উঁচিয়ে আলফারো বলেন: "আমাকে নিয়ে সমালোচনা করুন। আপনারা আমার দিকে গুলি চালাতে পারেন, কিন্তু ওদের (খেলোয়াড়দের) ওপর নয়। ওদের রক্ষা করুন। কেন জানেন? কারণ বিশ্বকাপ শেষ হলে আমি হয়তো বিদায় নেব, কিন্তু ওরা থেকে যাবে। ওরাই এই দেশে থাকবে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করে যাবে।"
প্যারাগুয়ে ফুটবলারদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে এই আর্জেন্টাইন ট্যাকটিশিয়ান আরও বলেন, "দয়া করে আমাকে মারুন। আমি মাথা উঁচু করে আপনাদের সব ঘুষি মুখ বুজে সহ্য করে নেব। কিন্তু আপনাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, খেলোয়াড়দের আগলে রাখুন।"
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন ‘ফাইনাল’
২০১০ সালের বিশ্বকাপে নাটকীয়ভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে প্যারাগুয়ে । তবে প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খাওয়ায় 'গ্রুপ ডি'-তে টিকে থাকার লড়াইয়ে শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে ভুলের কোনো সুযোগ নেই তাদের। প্রথম ম্যাচে তুরস্কও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল। ফলে দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াই।
প্রথম ম্যাচে দলের রণকৌশল এবং একাদশ নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকরা বারবার প্রশ্ন করায় বেশ বিরক্ত হন আলফারো। তিনি বলেন, "আমি গত শনিবারই যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যায় বন্ধ করে দিয়েছি, আর আপনারা আমাকে বারবার সেই একই জায়গায় টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। আগামীকাল তুরস্কের বিপক্ষে আমাদের ফাইনাল ম্যাচ। এই ছেলেরা এখানে সাত মিলিয়ন (৭০ লাখ) মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে। আমি বরং দেখতে চাই আপনারা এই জার্সির পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন... কোচকে আপনারা ধ্বংস করে দিতে পারেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই।"
কোচের পাশেই বসে থাকা মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালার্জা সংবাদ সম্মেলনের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসিমুখে মন্তব্য করেন, "আসলে কোচের এমন বক্তব্যের পর এখন আমার কিছু বলাটা বেশ কঠিন, তাই না? যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটি আমাদের জন্য বড় একটা ধাক্কা ছিল। তবে সেই অধ্যায় শেষ। আগামীকাল আমাদের ফাইনাল এবং আমরা সেভাবেই মাঠে নামব।"
কানাডার ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে পা ভাঙল ইসমাইল কোনের