নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০০৪ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থকে একটি বারের জন্যও সংস্কার হয়নি রাস্তাটি।
প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এ মাটির সড়কটি বর্তমানে দুই পাশের জমির মালিকদের দখল ও অনুপ্রবেশে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সড়কটির স্বাভাবিক প্রস্থ ও অস্তিত্ব।
এদিকে সড়কের মাঝখানে থাকা একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কালভার্টের দুই পাশের রাস্তা নিচু হয়ে গেছে। ফলে রাস্তার তুলনায় কালভার্টটি অনেক উঁচু অবস্থানে রয়েছে। কালভার্টের উভয় পাশে একই অবস্থা বিরাজ করায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত রাস্তার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে আগের প্রস্থ ফিরিয়ে আনা, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট সংস্কার এবং পুরো সড়কটি উন্নয়ন করা হোক। তা না হলে ভবিষ্যতে চার গ্রামের মানুষের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ, নড়ইগাছা, বারইপাড়া ও নওশেরা মহল্লার ৪টি গ্রামের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা সংস্কারের অভাবে চলাচল বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। এপথ ব্যবহার করে অল্প সময়েই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হলেও বর্তমানে রাস্তা ও কালভার্টের বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসীকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
যেখানে এই সড়ক দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, সেখানে ঘুরপথে যেতে সময় লাগছে প্রায় ২০ মিনিট। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে রাস্তার দুই পাশের জমির মালিকরা ধীরে ধীরে রাস্তার জমি নিজেদের দখলে নিয়ে চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছেন। এতে একসময় প্রশস্ত থাকা সড়কটি বর্তমানে অনেক স্থানে সরু পথে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার প্রকৃত সীমানা চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙন এবং উঁচু-নিচু অংশের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় ৪ গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল এই সড়ক দিয়েই পরিবহন করতে হয়। এছাড়া সড়কের শেষ প্রান্তে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সড়কের মাঝামাঝি স্থানে থাকা একটি কালভার্ট বর্তমানে রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু অবস্থায় রয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, এমনকি বাই সাইকেল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কালভার্টটি পার হতে গিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন কালভার্ট পার হতে না পেরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
পৌরসভার বারইপাড়া মহল্লাার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুহুল আমিন সরকার বাবুসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একদিকে জমি দখল করে রাস্তা সরু করে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কালভার্টটিও রাস্তা হতে এত উঁচু যে সহজে যানবাহন পারাপার সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একসময় এই রাস্তার অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।
পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নড়ইগাছা মহল্লার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ কেবল বাড়ছেই।
উপজেলার ঘোরলাজ মহল্লার কৃষক পিন্টু আলী বলেন, সাইকেল সঙ্গে আছে তাও ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। একে তো কালভার্টটিতে উঠা যায়না। তারপরও রাস্তার মধ্যে অনেক গর্ত। দুই পশের জমির মালিকরা রাস্তা কেটে সংকুচিত করে ফেলেছে। রাস্তা খারাপের কারণে চলাচল কম হওয়ায় ঝোঁপঝাড়ে ভরে আছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
পৌরসভার আরজিমাড়িয়া ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, রাস্তাটির সমস্যার বিষয়টি তিনি আবগত আছেন। রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার এবং রাস্তার জায়গা দখলের অভিযোগের বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ পৌরসভাকেই নিতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, রাস্তাটি পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ায় এর সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পৌর কতৃপক্ষের। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পৌরসভা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাগাতিপাড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা হবে। কোথাও রাস্তার জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।