নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে একটি স্পিডবোট থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার চর জাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর কিনারা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হবির চর এলাকায় বালুমহালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেলাল গ্রুপ ও কাকন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার পর লালপুর থানা পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীতীর এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চর জাজিরা এলাকার নদীর কিনারায় একটি স্পিডবোট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তি মো. আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫)। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. আব্দুল শেখ এবং মাতা হাসিনা বেগম।
পুলিশ জানায়, নিহতের বাম চোখের উপরের অংশে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুলিটি মাথার ওপরের অংশ দিয়ে বের হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সবুজ-নীল রঙের স্পিডবোটও জব্দ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) খন্দকার শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত আজিজুল হক ঝড়ু চারঘাট এলাকার একটি বালু উত্তোলন পয়েন্টে কর্মরত ছিলেন। বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।