১৯৫৯ সালের জানুয়ারি মাস। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উরাল পর্বতমালার এক প্রত্যন্ত ও তুষারাবৃত অঞ্চলে ঘটে যায় এমন এক রহস্যময় দুর্ঘটনা, যা আজও ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের ছায়া ফেলে রেখেছে। এই ঘটনাটি ‘ডায়াটলভ পাস ইনসিডেন্ট’ নামে পরিচিত। ‘ইগর ডায়াটলভ’ নামের এক অভিজ্ঞ উরাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রের নেতৃত্বে কয়েকজন ছেলে-মেয়ে তুষার পর্বতারোহণের জন্য যাত্রা করেন। তারা সবাই ছিলেন দক্ষ স্কি অভিযাত্রী ও শিক্ষার্থী। কী ঘটেছিল?: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ রাতে তারা ‘খোলাত সাইকেল’ নামে পরিচিত এক দুর্গম পার্বত্য এলাকায় তাঁবু খাটিয়ে বিশ্রামে ছিলেন। কিন্তু পরে উদ্ধারকারীরা যে দৃশ্য দেখতে পান তা ছিল ভয়ংকর ও রহস্যে মোড়া তাদের তাঁবুটি ভেতর থেকে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন ছিলেন অর্ধনগ্ন ও খালি পায়ে, যদিও তাপমাত্রা ছিল২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। দুই অভিযাত্রীর মাথার খুলি ভাঙা, একজনের বুক থেঁতলানো, এবং এক নারীর জিহ্বা ও চোখ অনুপস্থিত ছিল। আশপাশে অসাধারণ কোনো লড়াই বা হাতাহাতির চিহ্ন ছিল না, কিন্তু মৃতদেহগুলো ছড়িয়ে ছিল বিভিন্ন দূরত্বে। সরকারি তদন্ত ও বিভ্রান্তি : তৎকালীন সোভিয়েত সরকার ১৯৫৯ সালে একটি তদন্ত শুরু করে। তারা বলেছিল ‘অপরিকল্পিত প্রাকৃতিক শক্তির’ কারণে মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু কী সেই শক্তি তা স্পষ্ট করেনি। স্থানীয় মানুষ ও গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, রাতে আকাশে উজ্জ্বল আলো দেখা গিয়েছিল যদিও তা আজও অমীমাংসিত। ২০১৯ সালে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আবারও তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয়, তুষারধসই প্রধান কারণ। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ও পরিবার তা মানেননি। ঘটনার বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ছিল এবং কিছু নথি আজও সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। ডায়াটলভ পাস দুর্ঘটনা ইতিহাসের এমন একটি ঘটনা, যেখানে ৯ জন তরুণ অভিযাত্রীর মৃত্যু রহস্য হয়ে রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এত উন্নতির পরেও, এই অজানা ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচন করা যায়নি। এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং মানব ইতিহাসে চিরকালের রহস্য।