সবার আগে জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জন করবেন কারা? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি এমন তিন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষ সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। এক. শহীদ। দুই. যে ভেতরে-বাইরে সৎ। তিন. এমন দাস, যে উত্তমরূপে তার রবের ইবাদত করে এবং তার মালিকের কল্যাণ কামনা করে।’ (সুনানে তিরমিজি ১৬৪২)
প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে শহীদের কথা। আল্লাহর দ্বীন, সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন উৎসর্গকারীরা ইসলামে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। কোরআন মাজিদে মহান আল্লাহ শহীদদের মৃত বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর পথে নিহতদের মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করো না।’ (সুরা বাকারা ১৫৪)
দ্বিতীয় শ্রেণি হলো সেই ব্যক্তি, যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় অবস্থায় সৎ ও নিষ্ঠাবান। অনেক মানুষ লোক দেখানোর জন্য ভালো কাজ করে, কিন্তু অন্তরে ভিন্ন কিছু লালন করে। প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো তার অন্তর ও বাহির এক হওয়া। সে মানুষের সামনে যেমন, নির্জনেও তেমন। তার চরিত্রে থাকে সততা, আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি।
তৃতীয় শ্রেণি হলো এমন কর্মচারী বা অধীনস্থ ব্যক্তি, যে নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করে এবং যার অধীনে কাজ করে তার কল্যাণ কামনা করে। অর্থাৎ দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করে। ইসলামে শুধু ইবাদতই নয়, মানুষের হক আদায় এবং দায়িত্বশীল আচরণও মহান মর্যাদার কারণ।