হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য অটোমান যুগের এক বিরল ও মূল্যবান কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন করছে মিসরের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জাদুঘর। ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্প ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনটি দেখতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত স্মরণে পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাণ্ডুলিপিটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ইসলামি ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকেই হিজরি সনের সূচনা হিসেবে ধরা হয়, যা মুসলিম সভ্যতার ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
প্রদর্শিত কোরআনের এই হস্তলিখিত কপিটি ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দের। অর্থাৎ প্রায় ৪৭৮ বছর আগের। কাগজের ওপর কালিতে লেখা এ পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি অলংকরণ ও নকশাশিল্পে সজ্জিত। এটি বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আহমদ বিন জলিয়ানি কর্তৃক লিখিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাণ্ডুলিপিটি অটোমান যুগের ইসলামি ক্যালিগ্রাফি ও গ্রন্থ অলংকরণের অন্যতম উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এর শিল্পমান ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ইসলামি ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ধারার সাক্ষ্য বহন করে।
প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা পবিত্র কোরআন সংকলন ও সংরক্ষণের ইতিহাস সম্পর্কেও ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এ ধরনের প্রদর্শনী ইসলামি বিশ্বের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও শিল্প-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের পরিচিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত মুসলিম ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। এর মধ্য দিয়েই ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুসলিম জাতির ইতিহাসে সূচিত হয় নতুন অধ্যায়।
ইসলামের প্রথম নার্স ছিলেন যে নারী সাহাবি