চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সঠিক দক্ষতা ও সুযোগের মাধ্যমে এই তরুণরাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সামিট বাংলাদেশ,চট্টগ্রামের উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নিজের দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি পেশা ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’ গঠন করেছিলেন, তখন মূল দর্শনই ছিল দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা এবং তাদের জন্য একটি সঠিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে তরুণদের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই প্রতিকূল সময়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে নিয়ে সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা সত্য ও সঠিক ন্যারেটিভ তুলে ধরেছিলাম।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সেবা এখন অটোমেটেড বা অনলাইন করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। ‘ভূমি’অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই ট্যাক্স প্রদান, নামজারিসহ বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য দেশব্যাপী ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী অত্যন্ত স্বল্প খরচে নাগরিকরা অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে যুগান্তকারী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ে আমরা ‘জিও ফেন্সিং’প্রযুক্তির সাহায্যে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপের পাইলটিং শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেড মার্ক বা লাল সংকেত চলে আসবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অত্যন্ত কম খরচে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন, বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মো. তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মো. আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের ও পরিচালক সায়মা শওকত।