ডান হাত ভাঙা ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে নীলফামারীর খয়রাত নগর রেলওয়ে স্টেশনে পড়ে ছিল ১২ বছরের শিশু ইয়াসিন। পড়ে থাকতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনে ভর্তি করান আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তবে একদিন পরে শিশুটির পরিচয় মিললেও আর্থিক সংকটের কারণে তাকে নিতে আসতে পারছেনা তার পরিবার।
গতকাল শনিবার (২০ জুন) রাতে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল আধুনিক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়
শিশু ইয়াসিন সুনামগঞ্জ জেলা সদরের দোয়ারাবাজার থানার উত্তর নেতরছই গ্রামের সোহেল রানা ও আমেনা খাতুন দম্পতির ছেলে।
জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের খয়রাত নগর স্টেশন থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করান। হাসপাতালে আসার পরে সেখানের দায়িত্বরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. আমিনুর ইসলামসহ কয়েকজন চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন।
তবে প্রথমে শিশুটির নিদিষ্ট পরিচয় না মিললেও একদিন পরে শনিবার বিকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিচয় পাওয়া যায়। তবে পরিচয় পেলেও আর্থিক সংকটের কারণে শিশুটিকে নিয়ে যেতে নীলফামারীতে আসতে পারছে না তার পরিবার।
আনসার প্লাটুন কমান্ডার আমিনুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার সকালে খয়রাত নগর স্টেশন থেকে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করান। তার ডান হাত ভাঙা ও মাথায় আঘাত পেয়েছে। পরে আমি ও কয়েকজন মিলে তার এক্স-রে সহ সকল চিকিৎসা করাচ্ছি ।
তিনি জানান, প্রথমে শিশুটি কিছুই বলতে পারছিল না। পরে শিশুটির তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার উত্তর নেতরছই গ্রামে জানায়। শিশুটির কথা ও পুলিশের সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তবে সেখানের থানার ডিউটি অফিসারকে তার বাবা-মা জানিয়েছেন আর্থিক সংকটের কারণে তাকে নিতে আসতে পারছেন না। আমি থানায় জানিয়েছি তারা আসলে আমরা তাদের যাতায়াত খরচের ব্যবস্থা করে দিব। শিশুটি আনসার সদস্যের সহায়তায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আমরা চেষ্টা চলমান রেখেছি। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ চলছে।
ওসি আরও বলেন, শিশুটি কিভাবে এখানে এসেছে এখনও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ভুল করে ট্রেনে করে সে নীলফামারীতে এসেছে এবং ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে সে আঘাত পেয়েছে।