ইয়ামাল ম্যাজিকের অপেক্ষায় স্পেন

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের দিকে তাকালে এখন দূর থেকেই চোখে পড়ে আকাশছোঁয়া এক বিশাল বিজ্ঞাপন। সেখানে জ্বলজ্বল করছে ১৮ বছর বয়সী এক ফুটবল বিস্ময়ের মুখ লামিন ইয়ামাল। বর্তমান বিশ্বফুটবলের অন্যতম এই সুপারস্টারকে ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে স্পেনের বিশ্বকাপ ভাগ্য। তবে খাতা-কলমে হট ফেভারিট ও বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বমঞ্চের শুরুটা হয়েছে ভীষণ মলিন; প্রথম ম্যাচেই মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দের কাছে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে গেছে লা রোজারা।

আজ রবিবার এই মাঠেই গ্রুপ ‘এইচ’ এর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে তাদের প্রতিপক্ষ আত্মবিশ্বাসী সৌদি আরব। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।

প্রথম ম্যাচের পর স্প্যানিশ শিবিরে যখন তীব্র সমালোচনা, তখন মাঠের বাইরের বিপুল চাপকে একদম স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন ইয়ামাল। সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে এই বয়সেই তারকা বনে যাওয়া। এসব বাড়তি চাপের কারণ কি-না? এইসব প্রসঙ্গ এবং স্টেডিয়ামের গায়ে নিজের ছবি থাকা নিয়ে স্প্যানিশ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আরটিভিই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি। দেশের ভেতরে ও বাইরে আমি কীসের প্রতিনিধিত্ব করছি তা জানি। ওই ভবনে আমার ছবি থাকার অর্থ হলো আমি মাঠে এমন কিছু করতে পারি যা মানুষ দেখতে পছন্দ করে এবং যা তাদের রোমাঞ্চিত করে।’

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে খেলেছিলেন ইয়ামাল। তবে আসন্ন ম্যাচে পূর্ণ সময় খেলবেন কি-না এ নিয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি ভালো বোধ করছি, তবে শুরু থেকেই খেলাটা কিছুটা জলদি হয়ে যায় এবং এই মুহূর্তে অযথা ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরো ৯০ মিনিট খেলার সময় এখনো আসেনি। তবে কোচ আমাকে যত মিনিটের জন্যই মাঠে নামাতে চান না কেন, আমি প্রস্তুত।’

এদিকে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া এই ড্র-কে দেখছেন একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘হয়তো এই ধাক্কায় আমরা সতর্ক হয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছি এখানে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। টুর্নামেন্টের পরের ধাপে গিয়ে বাদ পড়ার চেয়ে প্রথম ম্যাচেই এমন ধাক্কা খাওয়া ভালো, যা আমাদের শতভাগ মনোযোগ ফিরিয়ে আনবে।’

কাগজে-কলমে অবশ্য সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের রেকর্ড শতভাগ নিখুঁত। দুই দলের মধ্যকার আগের ৩টি লড়াইয়ের সবকটিতেই জিতেছে স্পেন। যার মধ্যে একমাত্র দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে, যেখানে স্পেন ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল সৌদিকে।

তবে ৪ বছর আগে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া সৌদি আরবকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উরুগুয়েকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে গ্রিন ফ্যালকনরা এখন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। নতুন কোচ জর্জিয়োস ডনিসের রণকৌশল নিয়ে সৌদি মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ আল-খাইবারি বলেন, ‘আমরা কোচের ফুটবল দর্শন পুরোপুরি বোঝার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছি। সৌদি ফুটবল সম্পর্কে তার আগের জ্ঞান আমাদের দলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।’

গ্রুপ ‘এইচ’-এর সমীকরণ এখন একদম উন্মুক্ত, প্রথম ম্যাচ শেষে ৪টি দলেরই পয়েন্ট সমান ১। নকআউটের টিকিট পেতে আটলান্টার এই মঞ্চে স্পেনকে যেমন তাদের চিরচেনা ধারালো আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরতে হবে, তেমনি সৌদির লক্ষ্য থাকবে আরেকটি অঘটন ঘটানো।