সাম্বার ছন্দে দুরন্ত ব্রাজিল

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০২:১৬ এএম

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্রয়ের পর মাঠের ফুটবল নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। তার ওপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ শুরু করায় ব্রাজিলের ওপর চাপ ছিল পাহাড়সম। গতকাল ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে সেই চাপ এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিল সেলেসাওরা। ম্যাথেয়াস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চমৎকার নৈপুণ্যে প্রথমার্ধেই ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল। হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথম ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর একাদশে দুটি বড় পরিবর্তন আনেন কোচ আনচেলত্তি। রাইট-ব্যাকে ইবানেজের জায়গায় দানিলো এবং আক্রমণে ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে সুযোগ পান মাথেউস কুনহা। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট ব্রাজিলের খেলায় তীব্রতা থাকলেও ছন্দের অভাব ছিল স্পষ্ট। কিন্তু ২১ মিনিটে দৃশ্যপট বদলে দেন কুনহা। নিজেই বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন, যেখানে ব্রুনো গিমারায়েস ও ভিনির পাসিং কম্বিনেশনে বল পেয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন কুনহা।

গোল আসতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় সাম্বা ছন্দ। ৩৬ মিনিটে আসে কুনহার সেই দর্শনীয় দ্বিতীয় গোল। লুকাস পাকেতা মাঝমাঠে জোসু কাসেমিরকে বোকা বানিয়ে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুসকে। ভিনির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে শরীর ভারসাম্যহীন থাকা অবস্থাতেই বাঁ পায়ের এক বুলেট শটে বল জালের ছাদে পাঠান কুনহা। ২০১৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে নেইমারের পর কুনহাই প্রথম ব্রাজিলিয়ান, যিনি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করলেন। এই পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘নাম্বার ৯’ জার্সির যোগ্য দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন তিনি।

লুকাস পাকেতে দুর্দান্ত খেলেছেন। তিনি মাঠের মাঝখানটা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, লড়াইয়ে জিতেছেন এবং যখনই সম্ভব হয়েছে, হাইতির গোলে হুমকি স্বরূপ সুযোগ তৈরি করেছেন। তার সেরা মুহূর্ত ছিল বিরতির আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে দেওয়া চমৎকার অ্যাসিস্টটি। ফ্লামেঙ্গো অ্যাকাডেমিতে থাকাকালে তাদের শৈশবের বন্ধুত্ব থেকেই তাদের এই বোঝাপড়ার জন্ম। তার পাস থেকে গতি আর ড্রিবলিংয়ের প্রদর্শনীতে দলের ৩ নম্বর গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কমিয়ে দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে হাইতি বিরতির পর দুটি পরিবর্তন এনে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে। এমনকি একটি কর্নার থেকে গোল করার সুযোগও তৈরি করেছিল তারা, যা অ্যালিসন চমৎকারভাবে রুখে দেন।

ম্যাচের একপর্যায়ে কুনিয়া ও পাকেতাকে তুলে নিয়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি এবং রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তুর্কি এনদ্রিককে মাঠে নামান আনচেলত্তি। ১৮ বছর বয়সী এনদ্রিকের এটাই ছিল বিশ্বকাপ মঞ্চে অভিষেক। মাঠে নেমেই রায়ান অব বোর্নমাউথের পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেছিলেন এনদ্রিক, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ দিকে ব্রুনো গিমারেস ও ভিনিসিয়ুসকে বিশ্রাম দেন কোচ।

ম্যাচ জিতলেও ব্রাজিল শিবিরের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উইঙ্গার রাফিনহার ইনজুরি। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের উদ্দেশ্যে দৌড়ানোর সময় ডান উরুতে চোট পান তিনি। ব্যথাতুর অবস্থায় প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয় এবং তার বদলে ১৯ বছর বয়সী তরুণ রায়ান মাঠে নামেন। শিগগিরই রাফিনহার ইমেজিং টেস্ট করা হবে। পেশির এই চোট গুরুতর হলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে ছিটকে যেতে পারেন তিনি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এই মুহূর্তে কোনো বিকল্প খেলোয়াড় ডাকার সুযোগ নেই ব্রাজিলের, যা আনচেলত্তির কৌশলে বড় আঘাত।

এই জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট এবং +৩ গোল ব্যবধান নিয়ে ‘গ্রুপ সি’-এর শীর্ষে উঠে এলো ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে মরক্কো (যারা স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে)। আগামী বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত