অটোচালক হত্যা : ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লার মুরাদনগরে অটোচালক মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে অটোরিকশাসহ দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের বিষয়টি রবিবার (২১ জুন) বিকালে নিশ্চিত করেন বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল আলম।

শনিবার (২০ জুন) বিকালে কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে মো. নাঈম ইসলামকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে রাতে অপর আসামি আরমান সরকারকে (২০) গ্রেপ্তার করে এবং অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত  নাঈম ইসলাম দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ টিলী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে এবং আরমান সরকার মুরাদনগর উপজেলার হিরাপুর গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, অটোরিকশা চালক মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম গত ১৯ জুন বিকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের  হন। সর্বশেষ রাত ১০টায় স্ত্রীর সাথে ফোনে কোম্পানিগঞ্জ যাওয়ার কথা জানালেও পরবর্তীতে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। 
পরিবারের পক্ষ থেকে গত ২০ জুন সকালে মুরাদনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে ওইদিন সকাল ১০টায় বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামের পুর্বপাড়া ধরেরপাড় এলাকায় মাথা থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের পরিবার মরদেহ শনাক্ত করার পর বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ জানতে পারেন, কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় দুজন ব্যক্তি একটি সন্দেহভাজন অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় অত্র স্থানে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মো. নাঈম ইসলামকে আটক করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নাঈম স্বীকার করে যে, সে এবং তার এক সহযোগী মিলে মাসুমকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করেছে। 

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামি আরমান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল আলম।