কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (২১ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে তিনি কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন জগন্নাথপুর এলাকার বাবা শাহ বাড়ির মৃত সাজু সরদারের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। আজ দুপুরে তিনি কথিত কিশোর গ্যাং সদস্য বাদলকে এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে বাদল, স্বাধীন, রিয়াজ, পাভেল ও সৌরভসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল জাহাঙ্গীরের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল জানান, হামলাকারীরা প্রথমে জাহাঙ্গীরকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। পরে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার পায়ে আঘাত করলে কুড়ালটি পায়ের ভেতরে বিদ্ধ হয়ে আটকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের পায়ে বিদ্ধ থাকা কুড়ালটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। আজও বাদলকে মাদক ব্যবসা না করার জন্য নিষেধ করেছিলাম। এর জের ধরেই তারা দলবদ্ধভাবে আমার ওপর হামলা চালায় এবং কুড়াল দিয়ে আঘাত করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাদলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় অনন্য নির্মাণশৈলীর মসজিদ