বিদ্যা সিনহা মিম

সিনেমার পর ওয়েব দুনিয়ায়

মাঝখানে বেশ কিছুদিন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকার পর চলতি বছরে কাজ শুরু করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। গত ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার ‘মালিক’ সিনেমাটি। এই সিনেমার রেশ কাটার আগেই এবার ওটিটি পর্দায় ফিরলেন এই তরুণ মডেল-অভিনেত্রী। গতকাল রবিবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হওয়ার পর প্রথমেই ক্যারিয়ার শুরু করেন চলচ্চিত্র দিয়ে। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে কর্মক্ষেত্রে তাকে নিয়ে কখনো কারও কোনো অভিযোগ নেই। আদ্যোপান্ত কাজপ্রেমী একজন নায়িকা এবং অনন্তের দিকে প্রবহমান সময়কে যথাযথভাবে লাগানোরই চেষ্টা করে এসেছেন তিনি সব সময়। মাঝখানে বেশ কিছুদিন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকার পর চলতি বছরে সিনেমায় কাজ শুরু করেন তিনি। গত ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার ‘মালিক’ সিনেমাটি। এই সিনেমার রেশ কাটার আগেই এবার ওটিটি পর্দায় ফিরলেন এই তরুণ মডেল-অভিনেত্রী। গতকাল রবিবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে, যে চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক দেখতে পাবেন সময়, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক ভিন্ন গল্প। মুক্তির আগে প্রকাশ পাওয়া ফিল্মটির ট্রেলার ও একটি গানের মাধ্যমেই আগাম ঝলক দেখান মিম।  দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে এই অভিনেত্রী জানান,  অনেকেই কাজটিকে ‘পরাণ’-এর পর তার আরেকটি ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ কাজ হিসেবে দেখছেন।

কাজী আসাদ পরিচালিত এই ওয়েব সিনেমায় বিদ্যা সিনহা মিম অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে, তার সঙ্গে রয়েছেন রেজওয়ান পারভেজ।  সিনেমাটির গল্পে দেখা যায়, এক রহস্যময় মানুষকে খুঁজতে দুর্গম যাত্রায় বের হন মিম ও রেজওয়ান। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, মানবিক সম্পর্ক ও সময়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্পে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে আমাদের জীবনের গুরত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্ত, জীবনের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় এক সময়। ট্রেলারে দেখা যায়, একজন মানুষকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দুর্গম পথে যাত্রা শুরু করেন শহুরে তরুণী অনন্যা। মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে সহযোগী যুকক কোরবানের মধ্যে তৈরি হয় নানা মতবিরোধ, আবেগঘন মুহূর্ত এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপড়েন।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দুর্গম পথে মোটরসাইকেল চালানো। বিশেষ করে ক্ষেতের আল ধরে চলার সময় সহ-অভিনেত্রী মিমের নিরাপত্তার বিষয়টিও তাকে মাথায় রাখতে হয়েছে। উঁচু-নিচু রাস্তা এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাজ করা সহজ ছিল না। তবে ভালো দৃশ্য ধারণের পর পুরো ইউনিট নতুন উদ্যমে কাজ করত। অনন্যা চরিত্রটি সময়ের সঙ্গে এক ধরনের লড়াইয়ের মধ্যে আটকে থাকা একজন মানুষ। সে সেই সময়কে অতিক্রম করতে পারবে কিনা, সেটাই গল্পের মূল রহস্য। লাইফলাইনে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর এবং ফাতেমাতুজ জোহরা।

ওটিটিতে ফিরতে এত লম্বা সময় লাগল কেন জবাবে মিম বলেন, সত্যি বলতে দীর্ঘদিন ওটিটি থেকে দূরে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। যখন গল্প ও চরিত্রের সঙ্গে নিজের সমন্বয় খুঁজে পেয়েছি, তখনই কাজটি করেছি। এর ফাঁকে দিগন্তে ফুলের আগুন নামের একটি সিনেমার কাজও শেষ করেছি। যদি সময় মতো মুক্তি পেত তাহলে সেটিও বেশ আলোড়ন তৈরি করত বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সিনেমার গল্প যেমন দুর্দান্ত, তেমনি আমার চরিত্রটাও একেবারেই ব্যতিক্রম।’

‘লাইফলাইন’ সম্পর্কে মিম বলেন, ‘নামটি শুনেই বোঝা যায়, এটা একটা লাইফের জার্নি। ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টার যদি খেয়াল করেন, দেখবেন বালুঘড়ির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ সে সময়ের মধ্যে আটকে আছে কিংবা এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যা তাকে অতিক্রম করতে হবে। সে পারবে কী পারবে না, সেটাই গল্পের বড় প্রশ্ন।’ ট্রেলারে তাকে কাউকে খুঁজতে দেখা গেলেও সেই রহস্য এখনই ভাঙতে নারাজ অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, ‘দর্শকদের জন্য এটিই বড় চমক, যা সিনেমা মুক্তির পরই জানা যাবে।’

‘লাইফলাইন’-এর আগে ‘মিশন হান্টডাউন’ সিরিজে স্বামীকে খুঁজতে বের হওয়া নীরা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিম। তবে ‘লাইফলাইন’-এর গল্পের সঙ্গে সেই কাজের কোনো মিল নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং নতুন এই ওয়েব ফিল্মে দর্শক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন বলেই বিশ্বাস তার। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন মিম। তিনি জানান, কুয়াকাটার ভেতরের একটি দুর্গম চর এলাকায় শুটিং হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে মোটরসাইকেলই ছিল প্রধান ভরসা। সরু ও উঁচু-নিচু পথ, প্রচণ্ড গরম এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে বেশ কষ্ট হলেও দৃশ্য ভালো হলে সেই ক্লান্তি দূর হয়ে যেত।

মিমের কাছ থেকে জানা গেল, মালিক ২ সিনেমাটির ঘোষণা দিয়েছেন এর নির্মাতা। তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ইতিমধ্যে আরও দুটি কাজ শেষ করেছেন তিনি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই নিয়মিতভাবে তাকে নতুন নতুন কাজে দেখতে পাবেন দর্শক। এই লাক্স সুন্দরী বলেন, ‘ঈশ্বরের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা আমি এমন এক পরিবারে জন্ম নিয়েছি যে, পরিবার আমাকে তার সবটুকু দিয়েই সবসময় আমাকে আগলে রাখে, তাদের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে আমাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ করার চেষ্টা করেছেন, আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। সবার কাছে একটাই প্রার্থনা, আমি যেন ভালো ভালো কাজ দর্শককে উপহার দিতে পারি।’