রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রীদের একমাত্র শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলের নারী শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে একযোগে স্লোগান দিয়ে উপাচার্য বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেশির ভাগ সময় হলের ডায়নিং বন্ধ থাকে, রিডিং রুমের সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই, গণরুমের পরিবেশ যথার্থ নয়, তাছাড়া ডায়নিং বন্ধ থাকলেও খাবারের জন্য অল্টারনেটিভ ব্যবস্থা নেই, প্রভোস্ট ম্যাম আমাদের কথা না শুনে মনগড়া নোটিশ দেন। এমনিতে ডায়নিং রেগুলার নয় তাতে আবার গণরুমে মিল চালানো বাধ্যতামূলক। সকালে মিলের কথা উঠলে শিক্ষার্থীদের চিড়ামুড়ি খেয়ে থাকতে বলা হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের যে রিডিং রুম আছে তাতে আমরা বসতে পারি না। সেখানে প্রচুর মশা আর আবর্জনা। তাছাড়া শুধু ৩টি বেঞ্চ দিয়ে চলছে রিডিং রুম। বিনোদনের জন্য কোনো ব্যবস্থাও নেই।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষার্থী বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, কয়েকদিন পর পরই কোনো না কোনো ইস্যু করবে হল প্রশাসন। একজন শিক্ষার্থীর চাহিদাগুলোর কোনো কিছুই এখানে সঠিকভাবে পাচ্ছি না। নতুন হল তৈরি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। আর প্রভোস্টের স্বেচ্ছাচারীতায় ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, মেয়েদের হলে কিছু সমস্যা আছে। আমরা আগামীকাল প্রশাসনিকভাবে একটা ভিজিট করব দ্রুত যেগুলো সমাধান করা যায় আমরা করবো। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, হলে অবৈধভাবে অনেকে হিটার দিয়ে রান্না করে যা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের জন্য ব্যয়বহুল। হিটার ও ডাইনিং একসঙ্গে চলতে পারবে না। আমরা এই বিষয়টির সমাধান করব। আর ২৪ ঘণ্টা যেন এখানে থাকে এরকম প্রভোস্ট আমরা খুঁজতেছি। আশাকরি দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে।
রিডিং রুমের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামীকাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে গিয়ে ভিজিট করব। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
এনিয়ে ফেলানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।