'প্রতিপক্ষ (অস্ট্রিয়া) যদি আমাদের চেয়ে ভালো খেলে, তবে প্রয়োজনে ডিফেন্সিভ (কাউন্টার-অ্যাটাকিং) কৌশল বেছে নিতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। সবসময় যে বলের দখল নিজেদের কাছে রাখা যাবে তা নয়, তবে দিনশেষে ম্যাচের ফলাফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই আসল কথা।'
কথাগুলো বলেছেন আর্জেন্টিনা দলের হেড কোচ লিওনেল স্কালেনি। গতকাল কানসাস সিটিতে সংবাদ সম্মেলনে আরো অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলপন তিনি:
অস্ট্রিয়াকে সমীহ করার কারণ
অস্ট্রিয়া অত্যন্ত কঠিন ও গোছানো এক প্রতিপক্ষ। তারা কেন এত বিপজ্জনক দল, তা তাদের খেলার গতি এবং কৌশল দেখলেই বোঝা যায়। এই ম্যাচে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
দলের দুর্বলতা ও প্রথম ম্যাচের ভুলত্রুটি
প্রথম ম্যাচে অবশ্যই কিছু ভুলত্রুটি ছিল, যা আমি প্রকাশ্যে এখানে বলব না। যেকোনো প্রতিপক্ষই আর্জেন্টিনার শক্তির পাশাপাশি দুর্বলতার জায়গাগুলো খোঁজার চেষ্টা করে। তবে আমরা প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে বসে থাকিনি, খেলোয়াড়দের তা বুঝিয়ে বলেছি।
কাতার ২০২২-এর চ্যাম্পিয়ন দল বনাম বর্তমান দল
কাতার বিশ্বকাপের পর আমরা অনেক দুর্দান্ত ম্যাচ খেলেছি এবং নিজেদের একটা নির্দিষ্ট মান ধরে রেখেছি। দলে থিয়াগো আলমাদার মতো খেলোয়াড়রা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে; যা আগে আনহেল ডি মারিয়া ডানপ্রান্তে করত, থিয়াগো এখন বামপ্রান্তে সেটি করছে।
তরুণদের অন্তর্ভুক্তি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল
জুলিয়ানো সিমেওনে ও নিকো গঞ্জালেসের অন্তর্ভুক্তি দলকে আরও ক্ষুরধার ও গতিশীল করেছে। পাশাপাশি নিকো পাজের মতো তরুণ শক্তির উত্থান ঘটেছে। তারা কেউই পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচে নামতে দেয়নি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
বিশ্বকাপ ও খেলার তীব্রতা
তীব্রতা বলতে আসলে কী বোঝায়, তা দেখতে হবে। যখন বল নিজেদের পায়ে থাকবে না, তখন যেন প্রতিপক্ষ ক্ষতি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি।
আবহাওয়া ও খেলোয়াড়দের ক্লান্তি
অতিরিক্ত গরমের কারণে এবং ক্লাব ফুটবলের ধকল থাকায় অনেক দলই এখন মাঠে টানা ম্যান-টু-ম্যান বা হাই-প্রেস করে খেলতে পারছে না। মাঝমাঠেই এখন আসল লড়াই হচ্ছে।
বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ সমীকরণ
"বিশ্বকাপ কোন দিকে যাবে বা কারা ফেবারিট তা বলার জন্য এটি প্রাথমিক সময় হলেও, বড় দলগুলো যে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।"
২৬ জন খেলোয়াড়ের ফিটনেস
সব খেলোয়াড়ের পক্ষে ১০০ ভাগ ফিট থাকা কঠিন, কারণ তারা ক্লাব ফুটবলে প্রচুর ম্যাচ খেলে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা যেন নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারে। বর্তমানে আমাদের ২৬ জন খেলোয়াড়ই ম্যাচের জন্য তৈরী আছে যা দলের জন্য দারুণ খবর।
লিওনেল মেসির জন্মদিন প্রসঙ্গে
মেসির জন্মদিনে আমার একটাই চাওয়া—সে যেন সবসময় সুখী থাকে। আপনারা হয়তো অন্য কোনো বড় ফুটবলীয় উত্তর আশা করেছিলেন (হাসি), কিন্তু তার ভালো থাকা এবং সুখী থাকাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।
স্পেন দলের পারফরম্যান্স
অনুশীলনের সময় আমরা স্পেনের ম্যাচটি দেখেছি। তারা যেভাবে জিতেছে তাতে আমি অবাক হইনি। প্রথম ম্যাচে তারা ড্র করলেও সেটি তাদের প্রাপ্য ছিল না। স্পেন প্রমাণ করেছে তারা দারুণ ছন্দে আছে এবং টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবে।
মেক্সিকো '৮৬-র ঐতিহাসিক ম্যারাডোনার গোলের ৪০ বছর
যতদূর মনে পড়ে, তখন আমি আমার দাদীর বাসায় ছোট একটা টেলিভিশনে সেই ম্যাচটি দেখেছিলাম। অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত ছিল। আগামীকালই (২২ জুন) যে সেই ঐতিহাসিক গোলের ৪০ বছর পূর্ণ হচ্ছে, তা জানা ছিল না। দাদীর ঘরের সেই ছোট টিভির স্মৃতিটা এখনো নাড়া দেয়। আমরা আবার সেই মুহূর্তটি বিভিন্ন মাধ্যমে দেখব এবং নিশ্চিতভাবেই আমরা আবারও কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ব, হয়তো একটু কাঁদবও।