ডিয়েগো ম্যারাডোনার অমর কীর্তির ৪০ বছর আজ

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

আজ ২২ জুন, ২০২৬। ঠিক ৪০ বছর আগের এই দিনটিতেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছিল এমন এক জাদুকরী ও অবিশ্বাস্য মহাকাব্য, যা ফুটবল ইতিহাসের গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে  বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

সেদিন মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি গোল করেছিলেন। ধূর্ততা আর বিশুদ্ধ শিল্পের সেই অবিশ্বাস্য মেলবন্ধনে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছায় এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে।

ফুটবল ঈশ্বরের সেই অমর কীর্তির গল্পটি আজও প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে জীবন্ত:

হ্যান্ড অব গড: ধূর্ততার এক ইতিহাস

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ঠিক ৫১তম মিনিটে ঘটল সেই অবিশ্বাস্য কাণ্ড। ইংল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতর ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিল্টনের চেয়ে উচ্চতায় বেশ কম হওয়া সত্ত্বেও ম্যারাডোনা বলের উদ্দেশ্যে লাফিয়ে ওঠেন। কিন্তু মাথার বদলে তিনি চতুরতার সাথে তাঁর বাম হাত ব্যবহার করে বলটি শিল্টনের ওপর দিয়ে ইংল্যান্ডের জালে ঠেলে দেন।

হ্যান্ড অব গড

তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের ঘটনাটি খেয়াল করতে না পারায় গোলটির বৈধতা দেন। ইংলিশ ডিফেন্ডাররা হ্যান্ডবলের জোরালো দাবি জানালেও রেফারি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পরবর্তীতে ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা এই গোলটি সম্পর্কে তাঁর সেই বিখ্যাত মন্তব্যটি করেছিলেন—গোলটি হয়েছিল "কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা ও কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।" সেই থেকে এই গোল ফুটবল বিশ্বে 'হ্যান্ড অব গড' নামে অমর হয়ে আছে।

গোল অব দ্য সেঞ্চুরি: শতাব্দীর সেরা ফুটবল শিল্প

বিতর্কিত প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক চার মিনিট পর অর্থাৎ ৫৫তম মিনিটে ম্যারাডোনা যা করলেন, তা ফুটবল বিশ্ব আজ ৪০ বছর ধরে বিস্ময় নিয়ে দেখছে। নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে তিনি এক অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী দৌড় শুরু করেন।

শতাব্দীর সেরা গোল

নিজের জাদুকরী বাঁ পায়ে বল আঠার মতো লাগিয়ে প্রায় ৬০ গজ দূর থেকে একাই ড্রিবলিং করতে করতে তিনি পিষে ফেলেন পুরো ইংলিশ রক্ষণভাগকে। একে একে পিটার বেয়ার্ডসলে, পিটার রিড, টেরি বুচার এবং টেরি ফেনউইকসহ ইংল্যান্ডের ৫ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে চোখের পলকে কাটান ম্যারাডোনা। সবশেষে পরাস্ত করেন গোলরক্ষক পিটার শিল্টনকে। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে তিনি উপহার দেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গোলটি। এই গোলটিকে পরবর্তীতে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত