বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার তারকা মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এই ফুটবলার কেবল গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্রই নন, বরং বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা। অস্ট্রিয়া ম্যাচ, লিওনেল মেসি এবং তার নিজের ক্যারিয়ারের বিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনির অনলাইন পত্রিকা ওলে-র করা প্রশ্নের জবাবে খোলামেলা কথা বলেছেন এনজো।
প্রশ্ন: অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে কী আশা করছেন?
এনজো: আমরা একটা আক্রমণাত্মক ও সরাসরি ফুটবল খেলা দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যারা মিডফিল্ডে বেশ আগ্রাসী। আমরা পুরো সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করেছি যে কীভাবে এই ম্যাচে খেলব। আমাদের দল আত্মবিশ্বাসী।
প্রশ্ন: আপনি কি নিজেকে দলের অটোমেটিক চয়েজ বা অপরিহার্য মনে করেন?
এনজো: আমাদের দলে গোলরক্ষক বাদেও ২৪ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় আছে। সত্যি বলতে, আমি নিজেকে নিশ্চিত (নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়) মনে করি না। যখনই মাঠে নামার সুযোগ পাই, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি, দেশের জার্সি রক্ষা করি এবং দলের জয়ের জন্য যা করা দরকার সব করি।
প্রশ্ন: কোচ স্কালোনি এখন আপনার কাছে ঠিক কী চান?
এনজো: স্কালোনি এখন আমাকে বেশি করে বিল্ড-আপে অংশ নিতে এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে হানা দিতে বলছেন। চেলসিতে দুই বছর আগে আমি এই পজিশনেই খেলা শুরু করেছিলাম, তাই আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সতীর্থদের সাথে আমার বোঝাপড়া খুব ভালো এবং আমাদের খেলার ধরনটা বেশ সাবলীল।
প্রশ্ন: ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার পর মেসি যখন হতাশ হয়ে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন আপনি একজন ভক্ত হিসেবে তাকে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন। আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মেসির পাশে দাঁড়িয়ে আপনি তাকে কী লিখবেন?
এনজো: আমার সেই চিঠির কথা খুব মনে আছে। সেটা সব আর্জেন্টাইনের জন্যই একটা কঠিন সময় ছিল। আজ যদি আমাকে লিখতে বলা হয়, আমি আবেগের জায়গা থেকে আরও অনেক বড় কিছু লিখব। কারণ এখন আমি ওর সাথে ড্রেসিংরুম ও মাঠ শেয়ার করেছি। ও একজন অসাধারণ মানুষ এবং দুর্দান্ত খেলোয়াড়। সত্যি বলতে, মেসির পাশে থেকে আমি যা শিখেছি, তা লিখে শেষ করতে এখন একটা পুরো বইও আমার জন্য যথেষ্ট হবে না।
প্রশ্ন: কাতার বিশ্বকাপের এনজোর সাথে বর্তমান এনজোর পার্থক্য কোথায়?
এনজো: অনেক পার্থক্য অনুভব করি। এর মধ্যে চার বছর পার হয়ে গেছে। চেলসিতে বিভিন্ন কোচের অধীনে আমি অনেক কিছু শিখেছি। জাতীয় দলেও আমার খেলার ভূমিকা কিছুটা বদলেছে। কাতারে যখন এসেছিলাম, তখন আমি একটা বাচ্চা ছেলে ছিলাম। এখন আমি অনেক বেশি পরিপক্ক। নিজেকে প্রতিনিয়ত আরও সম্পূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে আমি নিজেই নিজের ওপর চাপ সৃষ্টি করি।
প্রশ্ন: কাতারে সৌদি আরবের কাছে হেরে শুরু করার তুলনায় এবার আলজেরিয়াকে হারিয়ে শুরু করাটা কতটা স্বস্তির?
এনজো: কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যখন আমরা সৌদি আরবের কাছে হেরেছিলাম, তখন আমি হয়তো পুরোপুরি সচেতন ছিলাম না যে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। ওটা অনেক বড় ধাক্কা ছিল। তবে এরপর যা ঘটেছিল তা তো রূপকথা। এবার জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাটা অবশ্যই ইতিবাচক, কারণ এটা দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই আত্মবিশ্বাসটা খুব দরকার ছিল।
প্রশ্ন: এই আর্জেন্টিনা দলে আপনার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব কী?
এনজো: লিও (মেসি) আমাদের মিডফিল্ডে খেলা তৈরি করার ক্ষেত্রে অনেক স্বাধীনতা দেয়। আমি দলের একদম নিচ থেকে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করি, বলের সাথে নিয়মিত টাচে থাকলে আমার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। চেলসিতে সিজন জুড়ে একটু ওপরের দিকে খেললেও, এখানে অ্যালেক্সিসের (ম্যাক অ্যালিস্টার) পাশে খেলতে এবং বক্সের ভেতর ঢুকতে আমি দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
প্রশ্ন: স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি কি তবে মিডফিল্ড?
এনজো: আর্জেন্টিনা সবসময়ই তার দক্ষ মিডফিল্ডারদের জন্য পরিচিত। আমাদের এই দলেও দুর্দান্ত সব মিডফিল্ডার আছে। বল পায়ে রেখে খেলা নিয়ন্ত্রণ করাই আমাদের মূল শক্তির জায়গা।
প্রশ্ন: মেসির জন্য দল কীভাবে কাজ করে?
এনজো: এটা বিশ্বকাপ, তাই এখানে সবার জেদ ও তাড়না কাজ করে। আমরা জানি এখানে তীব্র গরম, তাই আমরা বল বেশি মুভ করিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করি, যাতে লিও (মেসি) ফাইনাল থার্ডে বল পেয়ে তার চিরচেনা জাদু দেখাতে পারে। গত তিন-সাড়ে তিন বছরে কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও এই দলটা অনেক উন্নত হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন একসাথে খেলছি, তাই সতীর্থদের একে অপরকে চেনাটা মাঠে অনেক সাহায্য করে।
প্রশ্ন: সামগ্রিকভাবে এবারের বিশ্বকাপকে কীভাবে দেখছেন?
এনজো: ফুটবল দিন দিন আরও সমানে-সমানে লড়ার জায়গা হয়ে উঠছে। আমার মনে হয় কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। গ্রুপ পর্বেই অনেক দল বড় বড় চমক দেখাচ্ছে।