বিটিটিবির সাবেক তিন কর্মকর্তার ৪৪ বছর সাজা

দুদকের মামলায় বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় ৪৪ বছর কারাদ- দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাদের এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেয়। দ-প্রাপ্তরা হলেনÑ সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান খান ও সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন। বর্তমানে আসামিরা পলাতক আছেন।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিটিটিবির সাবেক তিন কর্মকর্তাকে যথাক্রমে ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪২০ ধারায় ৭ বছর কারাদ- ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর কারাদ- ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ৫ বছর কারাদ- ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৭৭(এ) ধারায় ৫ বছর কারাদ- ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ৫(২) ধারায় ৭ বছর কারাদ- ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মোট ৪৪ বছর কারাদ- হলেও সব কারাদ- একসঙ্গে কার্যকর হবে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিটিবির বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) কার্যালয়ে  কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অঙ্ক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত অর্থের অতিরিক্ত এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ওই অর্থ ক্যাশবুকে প্রদর্শন কিংবা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ কাজে তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান সহযোগিতা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।