বিপৎসীমা অতিক্রমের ৩ ঘণ্টা পর নেমেছে তিস্তার পানি

ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীর তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রমের তিন ঘণ্টা পর পানি আবার নামতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার(৫২.১৫) এক সেন্টিমিটার (৫২.১৪) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিন বিকাল ৩টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে এক সেন্টিমিটার (৫২.১৬) উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে বাড়া কমার মধ্যে ছিল দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি।

এদিন দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টায় এসে হুট করে তিস্তা গর্জে উঠে। এতে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার (৫২.১৫) এক সেন্টিমিটার (৫২.১৬) উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে তিন ঘন্টার মধ্যে পানির প্রবাহ দুই সেন্টিমিটার কমে এসে বিকাল ৬টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এর আগে, এদিন সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়।

ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের সর্বশেষ তথ্য মতে তিস্তা নদীর উজানে ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে বিকাল ৬টায় সেখানকার বিপৎসীমার (৮৫ দশমিক ৯৫) ৪২ সেন্টিমিটার (৮৫ দশমিক ৫৩) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় তিস্তার ব্যারেজ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার প্রবাহ বিকাল ৬টায় বিপৎসীমার (৬৫ দশমিক ৯৫) ১ সেন্টিমিটার (৬৫ দশমিক ৯৪) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে এই পয়েন্টে দুপুর ২টায় বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বিকাল ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে; যা তিন ঘন্টায় দুই সেন্টিমিটার নেমে এসে বিকাল ৬টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক আছে বলে তিনি জানান।