তিস্তায় আবারও পানি বাড়ছে। সোমবার(২২ জুন) রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার( ৫২.১৫) ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন তিস্তা যেকোনো মুহুর্তে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
এর আগে গত শনিবার (২০জুন) তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরবেষ্টিত ফসলি জমিগুলো পুনরায় তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি গতকাল রবিবার (২১জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ৫১.৯৭ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আজ সোমবার (২২জুন) সকাল ৯টায় পানি ৫১ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এদিন দুপুর ১২টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে ৫১.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল যা বিকাল ৩টা পর্যন্ত একই লেভেলে ছিল।
তিনি আরও জানান, মাত্র ৩ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ৫১.৯৮ সেন্টিমিটার (বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা আরও তিন ঘন্টায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় ৫২.০৫ সেন্টিমিটার (বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র ছয় ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে রাত ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৮৫.৯৫) ৩৬ সেন্টিমিটার (৮৫.৬৯) নিচ দিয়ে এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার(৬৫.৯৫) দশমিক ২০ সেন্টিমিটার (৬৬.১৫) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা যায়।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের উজান এলাকার দোমোহনী পয়েন্টে হলুদ সংকেত এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করেছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই নদীর পানি বৃদ্ধির খবর জানতে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তিস্তার পানি আরও বাড়তে থাকলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে এলাকাবাসী জানায়।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়র ঝাড়সিংহেশ্বর চর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ কম থাকলেও বিকাল ৪টার পর থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে।
চর খড়িবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই নদীর পানি ওঠানামা করছে। আজ সোমবার বিকাল পর্যন্ত পানি কম ছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। গত দুইদিন নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন ফসলী জমি নষ্ট হয়েছে। এভাবে হঠাৎ করে পানি আরও বাড়লে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।