বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট ফের চালু

২৯ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটে ফের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে তৃতীয় ইউনিট সচল করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।তবে, পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্রা বাড়বে এবং ২৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উন্নীত করার চেষ্টা রয়েছে। তৃতীয় ইউনিট চালু রাখতে এর জন্য দৈনিক ১ হাজার ৮শ’ টন কয়লার প্রয়োজন পড়বে। অপরদিকে, ১২৫ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি চালু রাখতে দৈনিক ৭০০-৮০০ মে.টন কয়লার দরকার পরবে।

এর আগে, গত বছরের ১ নভেম্বর (৬ মাস ২০ দিন) বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ মে এই তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়। তবে, ৫ দিন চালু থাকার পর গত ২৫ মে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায় এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রথম এবং তৃতীয় ইউনিটটি চালু থাকলেও মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই ইউনিট দুটি বন্ধ হয়ে যায়। 

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র বলছে, গত বছরের ১ নভেম্বর যাত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। চীনা হারবিন কোম্পানি তৃতীয় ইউনিট এর মেরামত কাজ শেষে পুনরায়  উৎপাদনে ফিরে। এটি সংস্কার করতে ব্যয় ধরা হয়েছে (৪.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার) যা বাংলাদেশী টাকায় ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৪ টাকা।

প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরনো, প্রতি ৫ বছর পর পর মেরামত করতে হয়। ইতোমধ্যে ২০ বছর হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার উপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম।

চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে এক দল চীনা প্রকৌশলী কাজ করেন। দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ দাম বাড়ার অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে।