রুমের দেওয়াল কি ভাঙতে পারবে ‘হাতি’

বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির ফুটবল মেশিনের সামনে পড়ে যখন ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হলো পুরো দল, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চে কুরাসাওয়ের দৌড় বোধহয় ওখানেই শেষ। কিন্তু ঠিক তার পরের ম্যাচেই ইকুয়েডরের ধেয়ে আসা একের পর এক শটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি। ইকুয়েডরের ২৭টি আক্রমণ রুখে দিয়ে আদায় করে নিল ঐতিহাসিক এক পয়েন্ট। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো ডিক অ্যাডভোকেটের সেই দলটির সামনে এবার নকআউটের টিকিট কাটার চূড়ান্ত পরীক্ষা, যেখানে তাদের লড়তে হবে আফ্রিকার শক্তিশালী ‘হাতি’ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে।

ফিলাডেলফিয়ায় আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাওয়া এই দুই দলের লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে এক অনন্য ইতিহাসও। ফুটবল বিশ্ব এর আগে কখনো এই দুই শক্তিকে এক মাঠে দেখেনি। এটি কুরাসাওয়ের ইতিহাসে কোনো আফ্রিকান দেশের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ, আর আইভরি কোস্টের জন্যও এটি কনকাকাফ অঞ্চলের কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রথম বিশ্বকাপ দ্বৈরথ।

কুরাসাওয়ের এই অনমনীয় পথচলার মূল কাণ্ডারি তাদের ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলোয় রুম। ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক ম্যাচে একাই ১৫টি চোখ ধাঁধানো সেভ করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ড বুক নতুন করে লিখিয়েছেন, যা ৯০ মিনিটের যেকোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দুই ম্যাচে ইতিমধ্যে ৫৩টি শটের মুখোমুখি হওয়া কুরাসাওকে আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো ও ইয়ান দিওমান্দেদের গতিময় আক্রমণভাগের সামনেও এই ‘রুম-দেয়ালে’ই ভরসা রাখতে হবে। তবে দলটির বড় দুশ্চিন্তা তাদের রক্ষণভাগের ক্লান্তি, কারণ শেষ ১৫টি গোলের ১১টিই তারা হজম করেছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। এর ওপর চোটের কারণে ফরোয়ার্ড জার্গেন লোকাদিয়ার খেলা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।

অন্য ডাগআউটে আইভরি কোস্টও আছে টেবিলের জটিল গাণিতিক সমীকরণের মারপ্যাঁচে। জার্মানির বিপক্ষে ৯৪ মিনিটের শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে নকআউটের টিকিট আগেভাগেই নিশ্চিত করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। তবে বিশ্বমঞ্চে খেলা নিজেদের ১১টি ম্যাচের ১০টিতেই গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড রয়েছে আফ্রিকান দলটির। অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির নেতৃত্বে তারা চাইবে কুরাসাওকে হারিয়ে সরাসরি শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে, যেখানে আইভরি কোস্টের পয়েন্ট বর্তমানে ৩ হওয়ায় এই ম্যাচটি কেবল ড্র করতে পারলেই তাদের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাবে।

কুরাসাওয়ের নকআউট ভাগ্য অবশ্য ঝুলে আছে কিছুটা জটিল সমীকরণে। কুরাসাও যদি আইভরি কোস্টকে হারাতে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। অন্য ম্যাচে ইকুয়েডর যদি জার্মানির বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তবে রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি শেষ ৩২-এ যাবে ক্যারিবীয় দলটি। তবে ম্যাচটি ড্র হলে কুরাসাওয়ের পয়েন্ট হবে ২, এবং জার্মানি যদি ইকুয়েডরকে হারিয়ে দেয়, তবে কুরাসাও টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকবে। সেক্ষেত্রে জার্মানির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৭ গোল খাওয়ায় তাদের গোল ব্যবধান এতটাই ঋণাত্মক যে, অন্যতম সেরা চার তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ তাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব। ফলে ইতিহাস গড়তে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ডিক অ্যাডভোকেটের শিষ্যদের।