গুয়াদালাহারার গ্যালারির ৯০ শতাংশজুড়ে হলুদের যে জোয়ার, তা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি-নজাউয়ের অতিমানবীয় দেওয়ালের সামনে। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই পাঁচটি নিশ্চিত সেভ করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে এক অনন্য রেকর্ড গড়েন পিএসজি একাডেমির এই ছাত্র। লুইস দিয়াজ ও হামেস রদ্রিগেজদের একের পর এক আক্রমণ যখন এমপাসির গ্লাভসে বন্দি হচ্ছিল, তখন কলম্বিয়ানদের মনে জাগছিল একরাশ হতাশা। কিন্তু কলম্বিয়ার ডেরায় যে একজন ‘তিন ফুসফুস’ ওয়ালা ডিফেন্ডার আছেন! টানা দুই ম্যাচে গোল করে ক্রিস্টাল প্যালেসের সেই রাইট-ব্যাক ড্যানিয়েল মুনিয়সের বাঁ পায়ের ম্যাজিকেই শেষ পর্যন্ত কঙ্গোর প্রতিরোধ ভেঙে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিল কলম্বিয়া।
বৃষ্টিভেজা এই ম্যাচের গল্পটা মূলত কলম্বিয়ার আক্রমণ বনাম কঙ্গোর রক্ষণের। কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্সের সামনে যে পাঁচজনের ‘লো ব্লক’ দেওয়াল তুলেছিলেন, তা ভাঙা অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। উল্টো আর্থার মাসুয়াকুর দূরপাল্লার থ্রো-ইন কলম্বিয়াকে বেশ ভালোই ভুগিয়েছে। তবে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে কলম্বিয়ান কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর এক মাস্টারস্ট্রোকে মাঠের চিত্র বদলে যায়। ক্লান্ত হামেস রদ্রিগেজের জায়গায় তিনি মাঠে নামান হুয়ান কিনতেরোকে, সঙ্গে যোগ দেন রিচার্ড রিওস ও জন কর্দোবা।
কৌশলের এই পরিবর্তনই ফল দেয় ম্যাচের ৭৬ মিনিটে। ডি-বক্সের প্রান্তে যখন কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা পেনাল্টির আবেদনে কিছুটা অপ্রস্তুত, ঠিক তখন কিনতেরো ও কর্দোবার পা ঘুরে বল পান মুনিয়স। ভেতরে ঢুকে তার নেওয়া শটটি কঙ্গোর ডিফেন্ডার স্টিভ কাপুয়াদির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল যখন জালে জড়ায়, তখন এমপাসির কিছুই করার ছিল না। টানা দুই ম্যাচে গোল করা মুনিয়স অবশ্য নিজেকে নায়ক মানতে নারাজ, ‘শুধু আমি গোল করেছি বলেই আমি হিরো নই। আমরা সবাই মিলে এক পরিবার হিসেবে এই জয় এনেছি।’
ম্যাচের মাঝপথে লুইস দিয়াজের দুটি দুর্দান্ত গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কলম্বিয়ান কোচ নেস্তর লরেঞ্জো বলেন, ‘কঙ্গোর মতো সুশৃঙ্খল দলের বিপক্ষে লাইনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হয়। আমরা আজ সেটাই করেছি।’
ম্যাচটিতে কলম্বিয়ার কিংবদন্তি কার্লোস ভালদেরামার ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছুঁয়েছেন অধিনায়ক হামেস। ম্যাচের শেষ দিকে কঙ্গোর সমতায় ফেরার শেষ চেষ্টাটি দারুণভাবে রুখে দেন কলম্বিয়ান কিপার কামিলো ভার্গাস। মাঠের বাইরে গ্যালারির মূল আকর্ষণ ছিলেন কঙ্গোর বিখ্যাত ফুটবল অনুরাগী ‘জীবন্ত মূর্তি’ খ্যাত লুমুম্বা ভিয়া (মিশেল কুকা)। চিতা বাঘের চামড়া পরা বডিগার্ডসহ রঙিন স্যুটে তার উপস্থিতি পুরো স্টেডিয়ামের করতালি কুড়ায়।
টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে চলে যাওয়া কলম্বিয়া আগামী শনিবার মায়ামিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ সেরা হতে এই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্টই যথেষ্ট কলম্বিয়ার জন্য। অন্যদিকে, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা কঙ্গো নকআউটের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে লড়বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।