চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যার ১৩ দিনে আদালতে চার্জশিট দাখিল

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়েকে হত্যার দশদিনের মধ্যে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, নিহত এনি বড়ুয়া ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী। হত্যার কারণ উল্লেখ করে বলা হয় ‘পাওনা টাকার লিখিত স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতেই মা ও মেয়েকে হত্যা করেন প্রতিবেশী’। 

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামি তেজ বড়ুয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন রাতে সোয়া তিনটার দিকে পটিয়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল এবং ঘটনাস্থলের পাশে চানখালি খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সুজন বড়ুয়া প্রতিবেশী তেজ বড়ুয়ার কাছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পেতেন। এ টাকার লিখিত স্ট্যাম্প সুজন বড়ুয়ার ঘরে ছিল। টাকার বিপরীতে নিয়মিত সুদ দিতেন তেজ বড়ুয়া। এ কারণে এসব স্ট্যাম্প চুরির পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে চুরি করতে গেলে এনি তাকে দেখে ফেলেন। এ কারণে তেজ প্রথমে এনিকে ও পরে তার মেয়ে প্রিয়ন্তীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার মূল আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, হাসপাতালের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতসহ সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে (১৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পিয়াস বড়ুয়া নামে পাঁচ বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হয়।