লক্ষ্মীপুরে বাসায় ঢুকে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড দেনায়েতপুর গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৪০), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২২), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এর মধ্যে গুরুতর আহত কলেজ শিক্ষার্থী ইকরা ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়। প্রেম ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

নিহতরা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লাটিয়া গ্রামের মৃত হকার কামালের স্ত্রী ও কন্যা। ঘটনার সময় তাদের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম বাড়িতে ছিলেন না। তিনি রায়পুর সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি একটি দোকানে কাজ করছেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তর মজুমদার (৩০) নামের এক হকারকে স্থানীয়রা নিহতদের বাসা থেকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে রায়পুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে পথিমধ্যে সেও মারা যায়। জহির হোসেন একই ভবনের সাবেক ভাড়াটিয়া। তিনি রায়পুর শহরে ভাসমান ফল বিক্রেতা। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকান্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। প্রেম ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর একই ভবনে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় সাত-আট মাস আগে তিনি ওই বাসা ছেড়ে চলে যান। হয়তো পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সকালে অন্তর এ বাসায় আসেন। এরপর তিনি ঘটনাটি ঘটান। রানী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে এখানে আসার কারণ জানতে চান, তখন অন্তর পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছেন বলে জানান। রানী এটা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তিনি এই পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি হয়তো উদঘাটন করাই সম্ভব হতো না। এরপরও ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তবে কী কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত শাহিনুরের স্বামী হকার কামাল হোসেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে রায়পুর শহরের এ বাসায় ভাড়া থাকতেন। ২০২১ সালে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতে গিয়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে কামাল হোসেনের মৃত্যু হলে তার স্ত্রী শাহিনুর তিন কন্যা ও এক ছেলেসন্তান নিয়ে একই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। এর মধ্যে ইকরা দ্বাদশ শ্রেণির ও শিফা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আর সায়মা ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। ছেলে রায়পুর শহরের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় মানুষের দান-অনুদানে শাহিনুর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন।

রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে ছয়-সাত জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা ওসি।