ধ্রুব এষ
‘আষাঢ়ে গল্প লিখতে বলছে।’
‘কে?’
‘তোর বন্ধু। তানিম কবির।’
‘টেনশন নিও না।’
‘কাল দুপুরের মধ্যে লিখে দিতে বলছে।’
‘তুমি কী করতে বলো?’
‘তোর কোনো বিবেচনা নাই?’
‘হইল।’
‘কুচিকুচি করে কাটবি।’
‘হইল।’
‘আঠারো ভাগা করে পলিব্যাগে ভরবি।’
‘হইল।’
‘একেক ভাগা একজনের কাছে যাবে। মুস্তফারে শুধু দুই ভাগা পাঠাবি। মুস্তফা অভুক্ত আছে।’
‘হইল।’
কবি ও আর্টিস্ট শতাব্দী জাহিদ। কবি ও সাহিত্য সম্পাদক তানিম কবির। তারা বন্ধু। দুপুরে শতাব্দী জাহিদ কল দিল তানিম কবিরকে। আষাঢ়ের মেঘ দেখাবে। তাদের আষাঢ়ের মেঘ বোতলে থাকে। লম্বা বোতল, পেটমোটা বোতল। তানিম কবির উৎফুল্ল হলো। আষাঢ়ের মেঘ দেখাতে দেখাতে শতাব্দী জাহিদ তানিম কবিরকে কাটল। কুচিকুচি করে কাটল। আঠারো ভাগা করে পলিব্যাগে ভরল।—আদ্যোপান্ত ভিডিও ফুটেজে দেখলাম। আষাঢ়ে গল্প চায়! মুস্তফাকে দুই ভাগা পাঠাব। আরও সতেরো জন বিডি লোকাল ক্যানিবলের লিস্ট পাঠালাম শতাব্দী জাহিদকে—এরা এরা ভাগ পাবে। শতাব্দী জাহিদ নিশ্চিত করল, ‘টেনশন নিও না।’
খ্যাতা পুড়ি আষাঢ়ে গল্পের। আষাঢ় মাস এখনো যায় নাই? বৃষ্টি হলো, ঘুম দিলাম। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে দেখলাম শতাব্দী জাহিদ মেসেজ দিয়ে রেখেছে : ডেলিভারড।
ভেরি গুড।
প্রশান্ত মনে গুগল, ইউটিউব দেখলাম। তানিম কবিরের নিউজ তারা এখনো পায় নাই। মুস্তফা গভীর রাতে কল দিয়ে বলল, ‘মহা সোয়াদ রে!’
এই হলো পরিস্থিতি। এখন কাল সকালে যদি তানিম কবির আবার মেসেজ দেয়!
‘দাদা গল্পটা লিখতে পারছেন?’
তাই দিল।
কেমনটা লাগে?
‘লিখছি তানিম। পাঠিয়ে দিতেছি।’
শতাব্দী জাহিদকে কল দিলাম। শতাব্দী জাহিদ ঘুমিয়ে আছে। অপদার্থ। ঘুম থেকে উঠে দেখবি তুই একটা কালেম পাখি হয়ে গেছিস।
ঝুম বৃষ্টি দুপুরে নামল। হাতির ঝিলে দেখা গেল এক অকুতোভয় কালেম পাখিকে বৃষ্টি ভিজে হেঁটে চলেছে কবি ও আর্টিস্ট শতাব্দী জাহিদের বাসায় গলি থেকে। আঠারো মিনিটের মধ্যে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য ভাইরাল হলো সোশ্যাল মিডিয়ায়।