দুই ম্যাচ তিন দলের ভাগ্য গড়ল

চার্লস ডিকেন্স তার বিখ্যাত ‘এ টেল অব টু সিটিজ’ বইয়ের শুরুতে লিখেছিলেন, ‘সেটি ছিল সেরা সময়, সেটি ছিল সবচেয়ে খারাপ সময়’। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষলগ্নে ফুটবল বিশ্বও যেন অবিকল দেখল ডিকেন্সের সেই চেনা লাইনের বাস্তব রূপ। ঘড়ির কাঁটা যখন একই ছন্দে ঘুরছিল, তখন দুই মাঠে অলক্ষ্যে তৈরি হচ্ছিল ভিন্ন দুই ভাগ্যের সমীকরণ। এক মাঠে যখন সহ-আয়োজক কানাডা ঘরের মাঠের সুবিধা হারিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের নকআউটের টিকিট কাটছিল, ঠিক একই সময়ে অন্য মাঠের ডাগআউটে তখন বসনিয়ার বন্য উদযাপন।

ভ্যাঙ্কুভারে কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরার রাজমুকুট মাথায় পরেছে সুইজারল্যান্ড; তবে হারলেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউটে ওঠার কীর্তি গড়েছে কানাডিয়ানরা। অন্যদিকে, একই সময়ে সিয়াটলের মাঠে কাতারকে ৩-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী মঞ্চে যাওয়ার সমীকরণে প্রহর গুনছে লড়াকু বসনিয়া, আর একরাশ হতাশা নিয়ে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে কাতারিদের।

সুইসরা গ্রুপ সেরা, ঘরের মাঠের সুবিধা হারাল কানাডা : ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ড্র করলেই ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পেত কানাডা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের থ্রিলারে সেই স্বপ্ন থমকে যায় সহ-আয়োজক দলটির। প্রথমার্ধের গোলশূন্য ড্র শেষে বিরতির ঠিক ৪০ সেকেন্ডের মাথায় জোহান মানজাম্বির পাস থেকে রুবেন ভার্গাসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে লিড নেয় সুইজারল্যান্ড। এর ১১ মিনিট পর এমবোলোর পাস থেকে এবার ব্যবধান ২-০ করেন ২০ বছর বয়সী মানজাম্বি নিজেই। পরে ৭৬ মিনিটে মাঠে নেমেই নিজের প্রথম স্পর্শে ভলিতে গোল করে কানাডাকে ম্যাচে ফেরান প্রমিজ ডেভিড। তবে শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

ম্যাচ শেষে নিজেদের দাপট নিয়ে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা যেখানে আছি, সেটির যোগ্য দাবিদার আমরা। এবার টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো দেখব এবং সামনে যে দলই আসুক, আমরা প্রস্তুত।’

ঘরের মাঠে হেরে নকআউটের ম্যাচটি লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলতে যাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘আমরা ভ্যাঙ্কুভারেই থাকতে চেয়েছিলাম। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে হলেও পুরো দেশকে ফুটবল উন্মাদনায় ভাসানোর এক বিশাল সুযোগ এখনো আমাদের সামনে রয়েছে।’

কানাডার রাউন্ড অব ৩২-এর প্রতিপক্ষ ইতিমধ্যেই নির্ধারণ হয়ে গেছে। আগামী ররিবার নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে তারা।

কাতারকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চে বসনিয়া : সিয়াটেলের লুমেন ফিল্ডে বসনিয়া দেখাল তরুণদের চমক। ম্যাচের ২৯ মিনিটে ১৮ বছর বয়সী কেরিম আলাজবেগোভিকের একক নৈপুণ্যের এক চোখ ধাঁধানো গোল এবং এর পাঁচ মিনিট পর অধিনায়ক এডিন জেকোর শট থেকে আসা আত্মঘাতী গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় বসনিয়া। সেখানে ৪২ মিনিটে কাতারের অধিনায়ক হাসান আল-হাইদোস এক গোল শোধ করলেও ৮০ মিনিটে বসনিয়ার ২১ বছর বয়সী এরমিন মাহমিচ গোল করে কাতারের ৩-১ ব্যবধানের বিদায়ঘণ্টা নিশ্চিত করেন। গোলের পর জার্সি খুলে বন্য উদযাপনেও মাতেন মাহমিচ।

আন্ডারডগ হিসেবে এসে পরের রাউন্ডের দোরগোড়ায় পৌঁছানো নিয়ে আবেগাপ্লুত বসনিয়ার কোচ সার্জেই বারবারেজ বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছিলাম একদম আন্ডারডগ হিসেবে এবং বড় কিছু করার চেষ্টা করছি। ছেলেদের জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত, মাহমিচ তো গোল করে কেঁদেই ফেলেছিল।’