খোলা আছে সব সম্ভাবনার দুয়ার

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

১৯২০ সালে প্রথমবার অলিম্পিকে অংশ নিয়েই রুপা জেতে স্পেন ফুটবল দল। ওটাই ছিল তাদের ফুটবল ইতিহাসে কোনো বড় মঞ্চে প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। সেখানে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াকু মানসিকতা আর হার না মানা মনোভাব দেখে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দলটির ‘লা ফুরিয়া রোহা’ নামকরণ করে। তখন থেকেই এটি স্প্যানিশ ফুটবলের বিখ্যাত ডাকনাম। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই পরিচয়ই বহন করছে বর্তমান স্পেন। এবার বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। দেশটির জনসংখ্যা বাংলাদেশের বগুড়া বা যশোর জেলার চেয়েও কম। অথচ বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা জিতেছিল তারাই। শুধু তা-ই নয়, ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় প্রায় দুই লাখ দর্শকের সামনে স্বাগতিকদের হারিয়ে দ্বিতীয়বার শিরোপা উঁচিয়ে ধরে তারা। ইতিহাসে যা ‘মারাকানাজো’ নামে অমর হয়ে আছে। ফুটবলে অসম্ভবকে সম্ভব করার সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর একটি সেটিই। তবে এরপর নিজেদের ছায়া হয়েই আছে দলটি। এবার গ্রুপ পর্বেই জটিল সমীকরণের অঙ্ক মেলাতে হচ্ছে তাদের। সাবেক এই দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি নবাগত কেপ ভার্দে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী দল সৌদি আরবেরও পরের পর্বে খেলার সম্ভাবনার দুয়ার খোলা আছে। সে কারণেই স্পেন-উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচ দুটি একই সুতোয় বাঁধা। দুই ম্যাচের ফলই বদলে দিতে পারে পুরো গ্রুপের ভাগ্য।

দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে স্পেন। এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট তাদের। ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উরুগুয়ে। সমান ২ পয়েন্ট আছে কেপ ভার্দেরও, তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তারা। সৌদি আরবের সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। অর্থাৎ শেষ ম্যাচের আগে কোনো দলই নিশ্চিতভাবে পরের পর্বে নাম লেখাতে পারেনি, আবার কোনো দলও পুরোপুরি বিদায়ও নেয়নি। তবে স্পেন তুলনামূলক স্বস্তিতে আছে।

এই গ্রুপের সমীকরণ বেশ পরিষ্কার। জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি নকআউট পর্বের টিকিট কাটবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ড্র করলেও নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে খুবই উজ্জ্বল। উরুগুয়ের জন্য জয়ই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেলে পরের পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে তাদের। ড্র করলে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত