আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিলের এক অদ্ভুত কাকতালীয় সমীকরণ আর ট্রফি খরা কাটার ইতিহাস। ১৯৭০ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ১৯৯৪ সালে এই আমেরিকার মাটিতেই বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছিল সেলেসাওরা। এরপর ২০০২ সালের শেষ ট্রফি জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২২ বছর। আবারও সেই আমেরিকার বুকেই চলছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ২৪ বছরের এই বৃত্ত কি এবার ভাঙবে?
এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গা বর্তমান ব্রাজিল দলকে নিয়ে নিজের অগাধ বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন,
"১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের আগেও আমাদের এই দলটা নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখবেন, এটা ব্রাজিল। আমরা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দেশ, তাই পান থেকে চুন খসলেই আমাদের নিয়ে সমালোচনা হবে—এটাই স্বাভাবিক। এবার আমাদের দলে দুর্দান্ত সব ফুটবলার আছে, আছেন কার্লো আনচেলত্তির মতো বড় একজন কোচ। আমি আবেগে নয়, ফুটবল-বুদ্ধি থেকেই বলছি—বিশ্বকাপ যত এগোবে, ব্রাজিল আরও ভালো খেলবে। আমি ভিনিসিউসদের এই ব্রাজিলকে ফাইনালে দেখছি।"
৩২ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের পেনাল্টি শুট-আউটের মুহূর্তটি স্মরণ করেন দুঙ্গা। ইতালির বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে চতুর্থ শটটি নিয়েছিলেন তিনি। সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে দুঙ্গা বলেন:
"বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মারতে যাওয়া মানে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধ। ৩২ বছর কেটে গেছে, বয়স বেড়েছে, অনেক কিছু ভুলে যাই—তবে সেই ফাইনালের প্রতিটা মুহূর্ত আমার মনে স্পষ্ট গেঁথে আছে। আমি যখন শট নিতে যাচ্ছিলাম, তখন প্রচণ্ড চাপ ছিল। কারণ আমার একটা সামান্য ভুলেই ২৪ বছরের স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারত। তবে তখনকার চেয়ে এখনকার ফুটবল অনেক বেশি বিজ্ঞানভিত্তিক, টেকনিক্যাল এবং কৌশলী।"
এবারের বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন জানিয়ে দুঙ্গা বলেন, পুরো বিশ্বের মতো তিনিও এই দুই মহাতারকার পায়ের জাদু উপভোগ করছেন। ব্রাজিল ছাড়া টুর্নামেন্টে কাপের দৌড়ে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে রাখলেও, ব্রাজিলের বাইরে দুঙ্গার প্রথম পছন্দ নেদারল্যান্ডস।
ডাচদের ডার্ক হর্স আখ্যা দিয়ে সাবেক এই বিশ্বজয়ী তারকা বলেন, 'ব্রাজিল ছাড়া আমাকে যদি একটি ফেবারিট দল বেছে নিতে বলা হয়, তবে আমি নেদারল্যান্ডসকে বাছব। তারা পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলেছে, তিনবার রানার্স-আপ হয়েছে। এবারও তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার। তবে একজন ব্রাজিলিয়ান হিসেবে আমি মন থেকে চাই, কাপটা ব্রাজিলই জিতুক।'