নারায়ণগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পাওনাদারদের মারধরের শিকার হয়ে আব্দুল মোতালিব (৬৪) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের কুলচর এলাকায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন, তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলী ও মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য পলাতক থাকলেও আসামী মহিউদ্দিনে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুল মোতালিব ওই এলাকার মৃত আলফাজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সুতার ব্যবসার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনকে ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেন আব্দুল মোতালিব। দীর্ঘ সময়েও টাকা ফেরত না পাওয়ায় উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে গত ১২ জুন মহিউদ্দিনের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে মুছাপুর ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মেম্বার বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেন।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে আব্দুল মোতালিব পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে আনোয়ার মেম্বারের মুখোমুখি হলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার মেম্বার বৃদ্ধের দাড়ি ধরে ধাক্কা দেন এবং কিল-ঘুষি মারেন। এতে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অচেতন হয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মুছাপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম বলেন, আমার পরিষদের মেম্বার যদি অন্যায় করে থাকে তবে অবশ্যই তার বিচার হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যতম আসামী মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।